শিশুদের নাইট টেরর: এটি কী এবং কীভাবে বন্ধ করবেন

শিশুদের নাইট টেরর শব্দটা শুনে ভয়ের মনে হতে পারে।

তবে চিন্তার কিছু নেই! এটি যতটা অস্বস্তিকর মনে হয়, বাস্তবে এটি আপনার শিশুর কোনো ক্ষতি করে না। আরেকটি স্বস্তির বিষয় হলো, মাত্র ৩-৬% শিশুরাই কখনো নাইট টেররের অভিজ্ঞতা লাভ করে। এর পাশাপাশি, ১৮ মাসের কম বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি আরও কম।

তবুও, নাইট টেরর সম্পর্কে জানা এবং এটি প্রতিরোধ করার উপায় শিখে রাখলে আপনি আরও নিশ্চিত থাকতে পারবেন। এখানে আমরা আলোচনা করব নাইট টেররের কারণ কী, শিশুর মধ্যে এর লক্ষণ কীভাবে বোঝা যাবে, আপনার শিশু যদি হঠাৎ চিৎকার করে জেগে ওঠে তখন কী করবেন, এবং যদি এটি বারবার ঘটে তাহলে কীভাবে সামলাবেন তার সহজ কিছু পরামর্শ।

শিশুদের নাইট টেরর কী?

নাইট টেরর হলো একটি ঘুমজনিত সমস্যা, যেখানে শিশু ঘুমের মধ্যে হঠাৎ চিৎকার, কান্না, চেঁচামেচা বা হাত-পা ছুঁড়তে শুরু করে। যদি আপনার শিশু নাইট টেররে ভুগে থাকে, তখন তাকে জেগে থাকা মনে হলেও, আসলে সে আধা-জাগ্রত অবস্থায় থাকে।

নাইট টেরর সাধারণত কয়েক মিনিট থেকে ৪৫ মিনিট পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। তবে, এটি শেষ হওয়ার পর শিশু সাধারণত আবার সহজেই ঘুমিয়ে পড়ে।

যদিও এটি আপনাকে ভয় পেতে পারে, তবে নিশ্চিত থাকুন—এটি আপনার শিশুর কোনো শারীরিক কষ্ট দেয় না। এটি দুঃস্বপ্ন বা খারাপ স্বপ্নের মতো নয়। এমনকি বেশিরভাগ ক্ষেত্রে শিশুরা এটি মনে রাখেও না।

নাইট টেররের সাধারণ লক্ষণ:

  • ঘুমের মধ্যে থামানো যায় না এমন কান্না বা চিৎকার।
  • কাঁপা বা হালকা কম্পন (খিঁচুনির মতো নয়)।
  • হৃদস্পন্দন দ্রুত হওয়া।
  • ঘাম ঝরা।
  • দ্রুত শ্বাস নেওয়া।
  • ভীতিকর বড় বড় চোখ।
  • চোখ খোলা থাকলেও চারপাশ স্পষ্টভাবে না দেখা।

বিশেষ সতর্কতা:
যদি মনে হয় নাইট টেররের সময় আপনার শিশু খিঁচুনির মতো কিছু অনুভব করছে, তাহলে দ্রুত আপনার চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।

নাইট টেরর কেন হয়?

নাইট টেরর একটি রহস্যময় বিষয়, এবং কেউই নিশ্চিতভাবে বলতে পারে না কেন শিশুরা বা প্রাপ্তবয়স্করা এটি অনুভব করে। তবে, এ নিয়ে কিছু তত্ত্ব রয়েছে:

  1. ঘুমের ধাপ পরিবর্তনের সঙ্গে সম্পর্ক:
    নাইট টেরর সাধারণত ঘুমের প্রথম তিন ঘণ্টার মধ্যে ঘটে। কিছু গবেষণা বলছে, এটি নন-REM ঘুম থেকে REM ঘুমের ধাপে পরিবর্তনের সময় ঘটে।
  2. স্নায়ুতন্ত্রের বিকাশ:
    আরেকটি তত্ত্ব অনুযায়ী, নাইট টেরর শিশুর সেন্ট্রাল নার্ভাস সিস্টেমের বিকাশের সঙ্গে সম্পর্কিত।
  3. অতিরিক্ত ক্লান্তি বা চাপ:
    নাইট টেররের সম্ভাব্য কারণ হিসেবে কিছু অতিরিক্ত বিষয় উল্লেখ করা হয়:
  • জ্বর বা অসুস্থতা।
  • ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া।
  • অতিরিক্ত ক্লান্তি।
  • নতুন পরিবেশ বা পরিস্থিতি থেকে আসা চাপ।
  • নতুন ঘর বা ঘুমানোর পরিবর্তিত ব্যবস্থা।
  • ঘুমের গুণমান কম হওয়া।

তবে এখনো এটি নিশ্চিতভাবে বলা কঠিন কেন কিছু শিশুর নাইট টেরর হয় আর কিছু শিশুর হয় না।

নাইট টেরর সামলানোর সহজ উপায়

নিচে নাইট টেররের সময় কী করবেন এবং যদি আপনার শিশু হঠাৎ চিৎকার করে জেগে ওঠে, তা কীভাবে সামলাবেন তার কিছু সহজ এবং বন্ধুত্বপূর্ণ পরামর্শ দেওয়া হলো:

শিশুকে জাগানোর চেষ্টা করবেন না

  • নাইট টেররের সময় শিশুকে জাগানোর চেষ্টা করবেন না। এটি ঘুমের থেকে বেশি আধা-জাগ্রত অবস্থার মতো, এবং জাগানোর চেষ্টা শিশুকে আরও বিভ্রান্ত বা অস্থির করতে পারে।
  • শিশুকে জাগালে তাকে আবার ঘুম পাড়ানো কঠিন হয়ে যেতে পারে।
  • সাধারণত নাইট টেরর নিজে থেকেই শেষ হয়ে যায় এবং শিশুটি শান্তভাবে আবার ঘুমিয়ে পড়ে।

নিজে শান্ত থাকুন

  • নাইট টেররের সময় শিশুর চিৎকার বা হাত-পা ছুঁড়া ভীতিকর লাগতে পারে। কিন্তু নিজেকে শান্ত রাখুন এবং গভীর শ্বাস নিন।
  • নাইট টেররের সময় বিশেষ কোনো চিকিৎসার প্রয়োজন নেই। এটি নিজের মতো শেষ হয়ে যায়।

অগ্রিম জানিয়ে রাখুন

  • যদি আপনার শিশুর নাইট টেররের অভ্যাস থাকে এবং আপনি রাতে বাইরে যান, তাহলে যিনি শিশুর দেখাশোনা করবেন তাকে আগেই জানিয়ে দিন, যাতে তারা প্রস্তুত থাকতে পারেন।

শিশুকে আশ্বস্ত করুন

  • যদি শিশুটি খুব জোরে কান্না করে বা চিৎকার করে, তাহলে দ্রুত তার কাছে যান।
  • যদিও শিশুকে জাগানো ঠিক নয়, পাশে থেকে তাকে শান্ত করুন।
  • আপনার উপস্থিতি এবং শান্ত আচরণ শিশুকে নিরাপদ অনুভব করতে সাহায্য করবে।

শিশুর হাত-পা ধরে রাখুন, যদি প্রয়োজন হয়

  • নাইট টেরর শিশুদের জন্য ক্ষতিকর নয়, তবে যদি তারা হাত-পা ছুঁড়ে, তখন দুর্ঘটনাবশত নিজেদের আঘাত করতে পারে।
  • এর জন্য, তাদের হাত-পা নরমভাবে ধরে রাখুন যাতে তারা নিরাপদ থাকে।
  • যদি শিশু বিছানা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে, তাহলে তাকে বিছানায় রাখার চেষ্টা করুন যতক্ষণ না নাইট টেরর শেষ হয়।
  • গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব শিশু নাইট টেররের অভিজ্ঞতা পায়, তাদের অনেকের মধ্যে স্লিপওয়াকিং বা ঘুমের মধ্যে হাঁটার প্রবণতা দেখা যায়।

শান্ত থাকুন এবং শিশুকে ভালোবাসা দিয়ে সামলান। নাইট টেরর ভয়ঙ্কর মনে হলেও এটি একেবারেই ক্ষতিকর নয়।

নাইট টেরর বনাম দুঃস্বপ্ন

নাইট টেরর এবং দুঃস্বপ্নের মধ্যে অনেক বড় পার্থক্য রয়েছে, এবং এটি বোঝা আপনাকে পরিস্থিতি সহজে সামলাতে সাহায্য করবে।

  1. দুঃস্বপ্ন হলো খারাপ স্বপ্ন, কিন্তু নাইট টেরর আধা-জাগ্রত অবস্থা:
    • দুঃস্বপ্নের সময় আপনার শিশুকে সহজেই জাগানো সম্ভব।
    • কিন্তু নাইট টেররের সময় শিশুটি সম্পূর্ণ ঘুমের মধ্যে থাকে না, আবার পুরোপুরি জেগেও থাকে না।
    • নাইট টেররের সময় শিশুকে জাগানোর চেষ্টা করলে সে আরও বেশি অস্থির বা বিভ্রান্ত হতে পারে। তাই এ সময় তাকে জাগানো উচিত নয়।
  2. মনে রাখার বিষয়:
    • নাইট টেররের অভিজ্ঞতা শিশুরা প্রায়ই মনে রাখে না।
    • তবে, দুঃস্বপ্নের কথা শিশুরা অনেক সময় মনে রাখে, যদিও তারা তা প্রকাশ করতে পারে না।
  3. ঘুমের সময় পার্থক্য:
    • নাইট টেরর সাধারণত ঘুমের প্রথম দিকে ঘটে, যখন শিশুটি হালকা ঘুমের পর্যায়ে থাকে।
    • দুঃস্বপ্ন সাধারণত গভীর REM ঘুমের সময় ঘটে, যা রাতের শেষভাগে বেশি হয়।
  4. ঘুমে ফিরে যাওয়া:
    • নাইট টেররের পরে শিশুরা সহজেই আবার ঘুমিয়ে পড়ে, কারণ তারা পুরোপুরি জেগে ওঠে না।
    • কিন্তু দুঃস্বপ্নের পর শিশুকে আবার ঘুম পাড়ানো কঠিন হতে পারে, কারণ এটি তাদের মনে বেশি প্রভাব ফেলে।

শান্ত থাকুন এবং শিশুকে সান্ত্বনা দিন। নাইট টেরর এবং দুঃস্বপ্ন দুটোই সামলানো সম্ভব, শুধু পার্থক্যটা বোঝা দরকার।

শিশুদের নাইট টেরর কখন শুরু হয়?

নাইট টেরর সাধারণত একটু বড় বয়সে, অর্থাৎ ৩-৭ বছর বয়সের মধ্যে দেখা যায়। তবে, কিছু ক্ষেত্রে ১৮ মাস বয়সের শিশুরাও নাইট টেরর অনুভব করতে পারে।

যদি আপনার নবজাতক ঘুম থেকে জেগে চিৎকার করে, তাহলে এটি সম্ভবত নাইট টেরর নয়, কারণ ১৮ মাসের আগে শিশুর নাইট টেরর হওয়া খুবই বিরল।

নাইট টেরর কখন শেষ হয়?
যদি আপনার শিশু মাঝে মাঝে বা নিয়মিত নাইট টেরর অনুভব করে, তাহলে এটি সাধারণত ৭ বছর বয়সের মধ্যে বন্ধ হয়ে যায়।

শিশুদের নাইট টেরর কীভাবে প্রতিরোধ করবেন?

যদিও নাইট টেরর পুরোপুরি বন্ধ করার কোনো উপায় নেই, তবে কিছু পদ্ধতি অনুসরণ করলে এটি কমানো সম্ভব।

১. শান্ত রুটিন তৈরি করুন

আপনার শিশুর বয়স যাই হোক না কেন, ঘুমানোর আগে একটি নির্দিষ্ট এবং শান্ত রুটিন অনুসরণ করুন। এটি শিশুর মনে নিরাপত্তার অনুভূতি তৈরি করে এবং নাইট টেরর বা দুঃস্বপ্নের ঝুঁকি কমায়।

২. নিয়মিত এবং উপযুক্ত ঘুমের সময়সূচি বজায় রাখু

গবেষণা বলছে, ঘুমের সময়ের অস্থিরতা এবং অতিরিক্ত ক্লান্তি নাইট টেররের ঝুঁকি বাড়ায়।

  • শিশুর জন্য প্রতিদিন একই সময় ঘুমানোর অভ্যাস তৈরি করুন।
  • বয়সের সঙ্গে মানানসই ঘুমের সময় নিশ্চিত করুন।

যদি আপনি আপনার শিশুর ঘুমের সময়সূচি নিয়ে বিভ্রান্ত থাকেন, তাহলে Smart Sleep Coach by Pampers™ অ্যাপ ব্যবহার করে দেখতে পারেন। এই অ্যাপটি শিশুর ঘুমের চক্র অনুযায়ী ঘুমানোর সঠিক সময় নির্ধারণ করে। এটি দিনের ঘুমের পরিমাণ নিশ্চিত করতেও সাহায্য করে, যা রাতে ভালো ঘুম নিশ্চিত করতে পারে।

৩. ভীতিকর গল্প বা শো এড়িয়ে চলুন

এটি সহজ মনে হলেও অনেক ঐতিহ্যবাহী রূপকথায় “ভয়ংকর” বিষয়বস্তু থাকে।

  • এমন গল্প বা টেলিভিশন শো এড়িয়ে চলুন যেখানে বনজঙ্গলে হারিয়ে যাওয়া বা দানবের মতো ভীতিকর বিষয়বস্তু থাকে।
  • যদি আপনার শিশু দুঃস্বপ্ন বা নাইট টেররের ঝুঁকিতে থাকে, তাহলে আনন্দদায়ক বই পড়ুন বা কোনো সুন্দর লালনগীতি (lullaby) ব্যবহার করতে পারেন যা শিশুকে ঘুমাতে সাহায্য করবে।

৪. কথা বলুন এবং আশ্বস্ত করুন

বেশিরভাগ শিশুই নাইট টেররের ঘটনা মনে রাখে না। তবে, যদি তারা এটি মনে রাখে বা কোনো দুঃস্বপ্ন নিয়ে আলোচনা করে, তাহলে তাদের সঙ্গে কথা বলুন।

  • তাদের বোঝান যে তারা নিরাপদ এবং এটি তাদের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না।
  • শিশুর মনের ভয় দূর করতে তাদের পাশে থাকুন এবং আশ্বস্ত করুন।

এই সহজ পদক্ষেপগুলো নাইট টেররের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করতে পারে এবং আপনার শিশুর ঘুম আরও স্বস্তিদায়ক করতে পারে।

নাইট টেরর নিয়ে কখন চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলবেন

নাইট টেরর শিশুর জন্য যেমন অস্বস্তিকর, তেমনি অভিভাবকদের জন্যও চিন্তার কারণ হতে পারে। তবে, কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত তা জানা আপনার শিশুর জন্য সঠিক যত্ন নিশ্চিত করতে সাহায্য করবে।

যে পরিস্থিতিতে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলা উচিত:

১. ঘন ঘন বা তীব্র নাইট টেরর:
যদি নাইট টেরর সপ্তাহে একাধিকবার ঘটে বা এটি অত্যন্ত তীব্র এবং দীর্ঘস্থায়ী হয়, তাহলে এটি নিয়ে চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করা গুরুত্বপূর্ণ।

২. দৈনন্দিন জীবনে প্রভাব:
যদি নাইট টেররের কারণে আপনার শিশু দিনে খুব ক্লান্ত থাকে, মনোযোগ দিতে সমস্যা হয়, বা তার স্বাভাবিক মেজাজ পরিবর্তিত হয়, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

৩. শিশুর ঘুমের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ:
যদি নাইট টেররের সময় আপনার মনে হয় যে শিশু দুর্ঘটনাবশত নিজেদের আঘাত করতে পারে, তাহলে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলে একটি নিরাপদ ঘুমের পরিবেশ নিশ্চিত করুন।

৪. সিজার বা ঘুমজনিত সমস্যার লক্ষণ:
যদি শিশুর ঘুমের সময় অস্বাভাবিক নড়াচড়া, শরীর শক্ত হয়ে যাওয়া, ঝাঁকুনি, সাড়া না দেওয়া, বা শ্বাসপ্রশ্বাসে কোনো পরিবর্তন দেখা যায়, তাহলে অবিলম্বে চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।

৫. পারিবারিক ইতিহাস:
যদি আপনার পরিবারের মধ্যে ঘুমজনিত সমস্যা বা অন্য কোনো স্বাস্থ্য সমস্যা থাকে, তাহলে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলুন। এটি সমস্যার মূল কারণ বুঝতে সাহায্য করতে পারে।

আপনার শিশুর স্বাস্থ্যের বিষয়ে কোনো সন্দেহ থাকলে, দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। এতে আপনার মন শান্ত থাকবে এবং আপনার শিশু সঠিক যত্ন পাবে।

শেষ কথা

শিশুর ঘুমে ব্যাঘাত ঘটার অনেক কারণ থাকতে পারে, আর নাইট টেরর অভিভাবকদের জন্য বেশ চিন্তার বিষয়।

যদি আপনার শিশু ঘুমের মধ্যে হঠাৎ চিৎকার করে উঠে, এটি স্বাভাবিক যে আপনি উদ্বিগ্ন হবেন। তবে, যদি এটি নাইট টেরর হয়, মনে রাখবেন এটি কিছু সময় পর নিজে থেকেই শেষ হয়ে যাবে এবং আপনার শিশু এটি কিছুই মনে রাখবে না। যদিও নাইট টেরর পুরোপুরি বন্ধ করা কঠিন, কীভাবে এটি সামলানো যায় তা জানা আপনাকে আরও প্রস্তুত এবং শান্ত থাকতে সাহায্য করবে।

যদি আপনার শিশু নাইট টেরর বা অন্য কোনো ঘুমজনিত সমস্যায় ভুগে থাকে, তাহলে একটি ফ্রি স্লিপ অ্যাসেসমেন্ট নিয়ে দেখুন যে তার ঘুমের রুটিনে কোনো পরিবর্তন প্রয়োজন কি না। অনেক সময় রুটিনে একটি ছোট পরিবর্তন বা ঘুমানোর সময় ঠিক করা শিশুর ঘুমে বড় পার্থক্য গড়ে তুলতে পারে।

শান্ত থাকুন, ভালোবাসা দিন, এবং ধৈর্য ধরে শিশুর সঙ্গে থাকুন। সবকিছু ঠিকঠাক হয়ে যাবে!

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQs):

শিশুরা কি নাইট টেরর অনুভব করতে পারে?

হ্যাঁ, তবে এটি খুবই বিরল। নাইট টেরর দুঃস্বপ্নের মতো নয়। নাইট টেররের সময় শিশুটি চিৎকার, কাঁপা বা হাত-পা ছুঁড়তে পারে এবং তাকে জেগে থাকা মনে হলেও, আসলে সে পুরোপুরি জাগ্রত থাকে না।

অভিভাবকদের জন্য এটি ভীতিকর মনে হতে পারে, তবে নিশ্চিত থাকুন—নাইট টেরর শিশুর কোনো ক্ষতি করে না। আরও ভালো কথা, শিশুটি পরবর্তী সময়ে এটি কিছুই মনে রাখে না।

নাইট টেররের কোনো লক্ষণ কি শিশুর মধ্যে দেখা যায়?

শিশুদের নাইট টেররের আগে কোনো নির্দিষ্ট লক্ষণ দেখা যায় না। তবে, নাইট টেররের সময় শিশু চিৎকার করে, হাত-পা ছুঁড়তে থাকে এবং ভয়ের শারীরিক প্রতিক্রিয়া যেমন দ্রুত হৃদস্পন্দন ও ঘাম হওয়া দেখা যেতে পারে।

আমি কি আমার শিশুর নাইট টেরর বন্ধ করতে পারি?

গবেষণায় দেখা গেছে, শিশুর জন্য একটি নিয়মিত ঘুমের রুটিন তৈরি করা, ঘুমানোর আগে শান্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং ভীতিকর গল্প বা ছবি এড়িয়ে চলা নাইট টেরর কমাতে সাহায্য করতে পারে। তবে, নাইট টেরর পুরোপুরি বন্ধ করার জন্য এখনো কোনো নিশ্চিত পদ্ধতি নেই।

আমার শিশু কেন চিৎকার করে জেগে ওঠে?
যদি আপনার শিশু সাধারণ কান্নার বদলে চিৎকার করে জেগে ওঠে, এটি দুঃস্বপ্ন বা নাইট টেররের কারণে হতে পারে।

  • দুঃস্বপ্ন: এটি খারাপ স্বপ্ন, এবং শিশুকে এই অবস্থায় সহজেই জাগানো সম্ভব।
  • নাইট টেরর: এটি একটি আধা-জাগ্রত অবস্থা, যেখানে শিশু চিৎকার করে, কাঁপে বা হাত-পা ছুঁড়তে থাকে। এই অবস্থায় শিশুকে জাগানো সম্ভব নয়।

ভালো দিক হলো, নাইট টেরর খুবই বিরল এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এটি দীর্ঘস্থায়ী হয় না। শিশুকে সান্ত্বনা দিন এবং তার পাশে থাকুন।

এই আর্টিকেলের সমস্ত তথ্য বিশ্বস্ত এবং নির্ভরযোগ্য চিকিৎসা ও সরকারি উৎস থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে, যেমন আমেরিকান একাডেমি অফ পেডিয়াট্রিক্স এবং আমেরিকান কলেজ অফ অবস্টেট্রিশিয়ানস অ্যান্ড গাইনোকলজিস্টস। আর্টিকেলে ব্যবহৃত উৎসগুলোর সম্পূর্ণ তালিকা নিচে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে, এই নিবন্ধের তথ্য কখনোই পেশাদার চিকিৎসা পরামর্শের বিকল্প নয়। আপনার শিশুর সঠিক নির্ণয় এবং চিকিৎসার জন্য সবসময় একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
References:
  • Journal of Developmental and Behavioral Pediatrics, “Inconsolable night-time awakening: beyond night terrors”
  • American Family Physician, “Common Sleep Disorders in Children”
  • Journal of Pediatric Nursing, “Night Terrors: Strategies for Families Coping”

Leave a Comment