Naps ১০১: আমার শিশুর ন্যাপ সমস্যা আছে কি?

অধিকাংশ বাবা-মাকে বলা হয় যে, যদি কোনো শিশু কেবল ৩০–৪৫ মিনিটের জন্য ঘুমায় বা টডলার হওয়ার পরও একটানা দুই ঘণ্টার কম সময় ঘুমায়, তাহলে তাদের যথেষ্ট ন্যাপ হচ্ছে না। যদিও এত ছোট ন্যাপ হতাশাজনক লাগতে পারে, কিন্তু আপনি হয়তো অবাক হবেন—এই “ছোট” ন্যাপগুলো অনেক পর্যায়ে একেবারেই স্বাভাবিক। বেশিরভাগ গবেষণায় দেখা গেছে, এমন ন্যাপ শিশুদের শেখার এবং স্মৃতিশক্তি গঠনের জন্যও উপকারী।

অন্যদিকে, কিছু শিশুর জন্য কিছু নির্দিষ্ট পর্যায়ে এই “ছোট” ন্যাপ যথেষ্ট মনে হয় না। তাহলে কিভাবে বুঝবেন আপনার শিশুর ছোট ন্যাপ স্বাভাবিক, নাকি এটি নিয়ে কিছু করার প্রয়োজন?

এই পোস্টে আমরা বিভিন্ন বয়সে স্বাভাবিক ন্যাপ কেমন হয় তা পর্যালোচনা করব এবং এমন শিশুর জন্য করণীয় আলোচনা করব, যে এখনও দীর্ঘ ন্যাপ নেওয়ার জন্য যথেষ্ট বড় হয়নি।

চলুন জেনে আসি চিকিৎসা বিজ্ঞান কি বলে?

শিশুর ঘুমের চাহিদা বয়স ও বিকাশের ধাপে ধাপে পরিবর্তিত হয়। নবজাতকদের দিনে বারবার ন্যাপ নেওয়া প্রয়োজন, কিন্তু বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ন্যাপের সংখ্যা কমে যায় এবং জাগ্রত থাকার সহ্যশক্তি বাড়ে

বয়স অনুযায়ী শিশুর ন্যাপের সাধারণ ধরণঃ

🔹 ৪-৬ মাস → দিনে ৩-৫ বার ন্যাপ (৩০-৯০ মিনিট)
🔹 ৯ মাস → দিনে ২ বার ন্যাপ
🔹 ১৮ মাস → দিনে ১ বার ন্যাপ
🔹 ৩ বছর+ → কেবল রাতের ঘুমই যথেষ্ট

গবেষণায় পাওয়া গেছে:

🔸 ন্যাপ নেওয়া শিশুদের শেখার দক্ষতা বেশি
🔸 ৩০-৪৫ মিনিটের ছোট ন্যাপও উপকারী
🔸 ন্যাপ শিশুর আবেগ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে
🔸 যারা নিয়মিত ন্যাপ নেয়, তাদের স্মৃতিশক্তি ভালো হয়

👉 এক গবেষণায় দেখা গেছে, তিন মাস বয়সী শিশুরা নতুন মুখ কেবল তখনই মনে রাখতে পেরেছে, যদি তারা সেটি দেখার পর ন্যাপ নেয় (Horvath et al., 2017)।

👉 ১৫ মাস বয়সী শিশুরা যদি অপরিচিত ভাষার ধরণ শোনার চার ঘণ্টার মধ্যে ৮৪ মিনিট ন্যাপ নেয়, তাহলে তারা সেই ভাষার ব্যাকরণগত ধরণ মনে রাখতে পারে। কিন্তু যারা ন্যাপ নেয়নি, তারা কিছুই মনে রাখতে পারেনি (Hupbach et al., 2009)।

শিশুর ঘুমের প্রয়োজনীয়তা বয়স ও বিকাশের ধাপে ধাপে পরিবর্তিত হয়। নবজাতকদের দিনে বারবার ন্যাপ নেওয়া প্রয়োজন, কিন্তু বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাদের ঘুমের ধরণ বদলে যায়। ন্যাপের সংখ্যা কমে যায় এবং শিশুর জাগ্রত থাকার সহ্যশক্তি বাড়ে।

৪-৬ মাস বয়সী একটি শিশু সাধারণত দিনে ৩-৫ বার ন্যাপ নেয়, প্রতিটি ন্যাপ ৩০-৯০ মিনিটের হতে পারে। ৯ মাস বয়সে বেশিরভাগ শিশু দিনে মাত্র দুইবার ন্যাপ নেয়। আর ১৮ মাস বয়সের দিকে একটিমাত্র ন্যাপই যথেষ্ট হয়। তিন বছর পার হওয়ার পর, শিশুদের সাধারণত শুধু রাতের একটানা ঘুমই প্রয়োজন হয়।

বৈজ্ঞানিক গবেষণা দেখিয়েছে, ন্যাপ নেওয়া শিশুদের জন্য বিশেষভাবে উপকারী—বিশেষ করে স্মৃতিশক্তি গঠন, ভাষা বিকাশ এবং আবেগ নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে। অবাক করার মতো হলেও, ছোট ন্যাপ (শিশুদের জন্য ৩০-৪৫ মিনিট এবং টডলারদের জন্য দুই ঘণ্টার কম) নিয়েও গবেষণাগুলো দেখিয়েছে যে এগুলো একইভাবে উপকারী।

বেশিরভাগ গবেষণায় ছোট শিশুদের ন্যাপ নেওয়ার প্রভাব বিশ্লেষণ করতে তাদের নতুন কিছু শেখানো হয়েছে—যেমন অপরিচিত মুখের ছবি, নতুন ভাষা বা একটি মোটর স্কিল কার্যকলাপ। এরপর, শিশুদের একটি নির্দিষ্ট সময় অপেক্ষা করতে দেওয়া হয়, যেখানে কেউ ন্যাপ নেয় এবং কেউ নেয় না। এরপর তাদের শেখানো জিনিসগুলো আবার দেখানো হয় বা কোনো নির্দিষ্ট কাজ করতে দেওয়া হয়, যাতে বোঝা যায় তারা কিছু মনে রেখেছে কিনা।

এই গবেষণাগুলো দেখিয়েছে যে ন্যাপ নেওয়া (ন্যাপ না নেওয়ার তুলনায়) শেখা এবং স্মৃতিশক্তি গঠনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

উদাহরণস্বরূপ, এক গবেষণায় দেখা গেছে, তিন মাস বয়সী শিশুরা কোনো নতুন মুখ কেবল তখনই মনে রাখতে পেরেছে, যদি তারা সেটি দেখার পর ন্যাপ নেয় (Horvath et al., 2017)।

আরেকটি গবেষণায় ১২ মাস বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে দেখা গেছে, ন্যাপের সময়কাল এবং শেখার মধ্যে সরাসরি কোনো সম্পর্ক নেই, তবে ন্যাপের সংখ্যা যত বেশি হয়, স্মৃতিশক্তি তত ভালো থাকে। এই গবেষণায়, ন্যাপ নেওয়া শিশুদের স্মৃতিশক্তি ন্যাপ না নেওয়া শিশুদের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে ভালো ছিল (Konrad et al., 2016)।

একইভাবে, ১৫ মাস বয়সী শিশুরা যারা কোনো অপরিচিত ভাষার ধরণ শোনার চার ঘণ্টার মধ্যে গড়ে ৮৪ মিনিট ন্যাপ নিয়েছিল, তারা সেই ভাষার ব্যাকরণগত ধরণ মনে রাখতে পেরেছে। অন্যদিকে, যারা ন্যাপ নেয়নি, তারা ভাষার কোনো অংশই মনে রাখতে পারেনি (Hupbach et al., 2009)।

ন্যাপ নতুন হাঁটতে শেখা শিশুদের মোটর স্কিল শেখার ক্ষমতাও বাড়ায়। এক গবেষণায় দেখা গেছে, যারা হাঁটতে শেখার দুই সপ্তাহের মধ্যে ছিল, তাদের ন্যাপ নেওয়ার ফলে খেলাধুলার টানেলের ভেতর দিয়ে হামাগুড়ি দিয়ে যাওয়ার দক্ষতা বেড়েছে। অন্যদিকে, যারা ন্যাপ নেয়নি, তারা তেমন উন্নতি দেখায়নি (Berger and Scher, 2017)।

ন্যাপ নেওয়া টডলারদের আবেগ নিয়ন্ত্রণেও সাহায্য করে। ২.৫ থেকে ৩ বছর বয়সী শিশুরা যখন একটি অসম্ভব পাজল সমাধান করার চেষ্টা করছিল, তখন যারা ন্যাপ নেয়নি, তারা সহজেই রেগে গিয়ে মেজাজ হারিয়েছে। কিন্তু যারা গড়ে ১.৭৫ ঘণ্টার ন্যাপ নিয়েছে, তারা বরং কোনো প্রাপ্তবয়স্কের কাছে সাহায্য চেয়েছে (Berger et al., 2013)।

এছাড়াও কিছু গবেষণায় ইঙ্গিত পাওয়া গেছে যে, বয়স অনুযায়ী পর্যাপ্ত ন্যাপ না নেওয়া শিশুদের শেখার ও বিকাশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। যেমন, ৯ মাস বয়সী শিশুরা দিনে দুইবার ন্যাপ নিলে তাদের স্মৃতিশক্তি একবার ন্যাপ নেওয়ার তুলনায় ভালো হয় (Mason et al., 2021)।

একইভাবে, ছয় মাস বয়সী শিশুরা যারা চার ঘণ্টার মধ্যে ৩০ মিনিটের বেশি (গড়ে ১০৬ মিনিট, একবারে গড়ে ৮১ মিনিট) ন্যাপ নিয়েছিল, তারা শেখার কাজে বেশি স্মৃতি ধরে রাখতে পেরেছে। অন্যদিকে, যারা ন্যাপ নেয়নি (গড়ে মাত্র ১৬ মিনিট ঘুমিয়েছে), তাদের স্মৃতিশক্তির উন্নতি কম ছিল (Seehagen et al., 2015)।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ন্যাপের সময় ও স্থায়িত্ব প্রতিদিন একরকম নাও হতে পারে, যা একেবারেই স্বাভাবিক। উদাহরণস্বরূপ, শিশুদের গ্রোথ স্পার্টের সময় সাময়িকভাবে ন্যাপের মোট সময় বা ন্যাপের সংখ্যা বেড়ে যেতে পারে (Lampl and Johnson, Sleep 2011)। তাই, যদি আপনার শিশু কয়েকদিন ধরে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ঘুমায়, তার মানে এই নয় যে সে প্রতিদিন একই পরিমাণ ন্যাপ নিতে পারবে।

যদিও গবেষণায় স্পষ্টভাবে দেখা গেছে যে শিশুদের ন্যাপ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ, তবে কতটুকু দিনের ঘুম শিশুর সুস্থতার জন্য আদর্শ, সে বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা নেই। উদাহরণস্বরূপ, কিছু গবেষণায় দেখা গেছে যে, দীর্ঘ সময়ের ন্যাপ নেওয়া টডলারদের রাতে দেরিতে ঘুমাতে যাওয়া এবং রাতের ঘুমের ব্যাঘাতের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে (Thorpe et al., 2015)।

কিছু ক্ষেত্রে, শিশুর দিনে আরও বেশি ঘুমের প্রয়োজন হতে পারে, কিন্তু ঘুমের নির্দিষ্ট অভ্যাস বা নির্ভরশীলতার কারণে সেটি সম্ভব নাও হতে পারে। ঘুমের নির্ভরশীলতা বলতে বোঝায়, শিশুর ঘুমিয়ে পড়ার জন্য যে শর্তগুলো প্রয়োজন হয়। যেহেতু ঘুমের সময় শিশুরা মাঝে মাঝে স্বাভাবিকভাবে জেগে ওঠে, তাই যদি কোনো শিশু দোলানো, খাওয়ানো বা কোলে নিয়ে ঘুমায় এবং পরে অন্য কোথাও স্থানান্তর করা হয়, তাহলে সে দ্রুত জেগে যেতে পারে। কারণ, শিশুরা সাধারণত বুঝতে পারে না যে তারা স্থানান্তরিত হয়েছে, তাই অন্য জায়গায় হঠাৎ জেগে ওঠা তাদের জন্য বিভ্রান্তিকর বা অস্বস্তিকর হতে পারে।

ঘুমের নির্ভরশীলতা (sleep associations) দিনের বেলায় রাতের তুলনায় বেশি সমস্যার কারণ হতে পারে, কারণ অল্প সময়ের ন্যাপও শিশুর ঘুমের চাহিদা কমিয়ে দিতে পারে। এর অর্থ হলো, আপনার শিশু হয়তো সামান্য বিশ্রাম পেয়ে নতুন করে জেগে থাকতে পারবে। বাস্তবে এর মানে হলো, যদি আপনার শিশু ৩০-৪৫ মিনিট পর জেগে ওঠে, তাহলে আগের ঘুমের অভ্যাস পুনরায় তৈরি করা কঠিন বা প্রায় অসম্ভব হয়ে যেতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, যদি আপনি শিশুকে দোল দিয়ে ঘুম পাড়ান, তবে একটি ছোট ন্যাপের পর শিশুটি হয়তো এতটাই সজাগ হয়ে যাবে যে, আর দোলানোর মাধ্যমে ঘুমাতে পারবে না।

রাতের ঘুম সংহত করা (যেমন, আমাদের ০-৬ মাস বা ৬-১৫ মাসের ক্লাসের কৌশল ব্যবহার করে) সহজ নয়, তবে এখানে ঘুমের চাহিদা (sleep pressure) এবং শিশুর জৈবিক ঘড়ি (circadian rhythm) উভয়ই তাকে ঘুমের দিকে ঠেলে দেয়, তাই ঘুম আসবেই। কিন্তু দিনের বেলায় এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই। এখানে কেবল ঘুমের চাহিদাই কাজ করে, যা অনেক সময় প্রতিরোধ করা সম্ভব।

যদি আপনি শিশুকে নতুন কোনো জায়গায় ঘুম পাড়ানোর চেষ্টা করেন বা নতুন কোনো ঘুমের সংকেত (sleep cue) ব্যবহার করেন, তবে সে হয়তো এক ঘণ্টা পর্যন্ত ঘুমাতে চাইবে না, এমনকি কখনো কখনো পুরো দিনই ঘুমের জন্য প্রতিরোধ করতে পারে।

রাতে শিশুকে নতুন পরিস্থিতির সাথে মানিয়ে নিতে কিছু করতে হয় না। যখন ঘুমের চাহিদা তীব্র হয়, তখন শিশুটি স্বাভাবিকভাবেই এক মুহূর্তের মধ্যে জেগে থাকা থেকে ঘুমের মধ্যে চলে যায়, যেন একটি সুইচ চালু হয়ে গেছে। কিন্তু দিনের বেলায় ঘুম আসার জন্য শিশুকে কিছু শারীরিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়—শিথিল হওয়া, শুয়ে পড়া, শ্বাস-প্রশ্বাস ধীর করা এবং চোখ বন্ধ করা।

এই কাজগুলো প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য স্বাভাবিক মনে হলেও, শিশুদের জন্য এগুলো শেখা কঠিন হতে পারে। তাছাড়া, শিশুর বিকাশের বিভিন্ন পর্যায়ে তারা খুব সহজেই বিভ্রান্ত হয়ে যায়। চারপাশের দুনিয়ায় এত কিছু দেখার ও শেখার আছে যে, অনেক সময় শিশুর পক্ষে ঘুমানো কঠিন হয়ে পড়ে।

আমার শিশুর ন্যাপ সমস্যা আছে কি?

কোনো সমস্যার সমাধান করার আগে আপনাকে আগে বুঝতে হবে যে আপনার শিশুর সত্যিই অতিরিক্ত ঘুমের প্রয়োজন আছে কিনা। শিশুর বয়স (গর্ভধারণের নির্ধারিত তারিখ অনুযায়ী) এবং ন্যাপের মাঝের সময় তার আচরণই আপনাকে সবচেয়ে ভালোভাবে বলে দেবে যে, সে দীর্ঘ সময় ন্যাপ নিতে সক্ষম কি না।

জন্ম থেকে ~৩ মাস

✅ ঘুম এলোমেলো ও অনির্দেশ্য হতে পারে
✅ ন্যাপের স্থায়িত্ব ২০ মিনিট থেকে ৩ ঘণ্টা পর্যন্ত ভিন্ন হতে পারে
✅ একমাত্র কাজ হলো শিশুকে নিজের মতো করে ক্রিব বা ব্যাসিনেটে ঘুমাতে সুযোগ দেওয়া

এই বয়সে বেশিরভাগ সুস্থ শিশুদের ন্যাপ নেওয়ায় তেমন কোনো সমস্যা হয় না, কারণ তখন তাদের ঘুমের ধরণ এখনো পরিপক্ব হয়নি। এই পর্যায়ে শিশুদের ঘুমের সময় কিছুটা এলোমেলো এবং অনির্দেশ্য হতে পারে, যা একেবারেই স্বাভাবিক। ন্যাপের স্থায়িত্ব কখনো ২০ মিনিট হতে পারে, আবার কখনো তিন ঘণ্টাও হতে পারে, এবং এটি প্রতিদিনই ভিন্ন হতে পারে।

এই সময়ে আপনার একমাত্র কাজ হলো শিশুকে সুযোগ দেওয়া যাতে সে নিজের মতো করে ক্রিব বা ব্যাসিনেটে ঘুমাতে শিখতে পারে। আপনাকে কোনো জোর করতে হবে না; কেবল সুযোগ করে দিন যাতে সে এই ঘুমের পরিবেশের সাথে পরিচিত হতে পারে এবং যখন সম্ভব, সেখানে ঘুমাতে পারে।

আমাদের ০-৬ মাস বয়সী শিশুদের ঘুমের ক্লাসে আমরা কোমল ও ধীরে ধীরে অভ্যাস গড়ে তোলার পদ্ধতি শিখাই, যা আপনাকে এই বিষয়ে সহায়তা করবে।

~৩ মাস থেকে ~৬ মাস বয়স

✅ ৩০-৪৫ মিনিটের ন্যাপ একেবারেই স্বাভাবিক
✅ ঘুম প্রশিক্ষণ করানোর উপযুক্ত সময় নয়
✅ শিশুর জন্য সহায়ক ঘুম (Assisted Sleep) উপকারী হতে পারে

সহায়ক ঘুমের কিছু কৌশল:
✔️ কোলে নিয়ে দোলানো
✔️ ব্যাসিনেট-স্টাইলের স্ট্রোলারে রেখে ঘুমানো
✔️ দিনে অন্তত একবার দীর্ঘ ন্যাপের ব্যবস্থা করা

ঘন ঘন ন্যাপ:
✔️ দিনে ৪-৬ বার ছোট ন্যাপ নেয়া স্বাভাবিক
✔️ শিশুকে পর্যাপ্ত বিশ্রাম পেতে সহায়তা করে

প্রায় ৩.৫-৪ মাস থেকে ৫.৫-৬.৫ মাস পর্যন্ত শিশুদের ৩০-৪৫ মিনিটের ন্যাপ নেওয়া একেবারেই স্বাভাবিক। এই বয়সে বড় কোনো হস্তক্ষেপ (যেমন, ঘুম প্রশিক্ষণ) করলে শিশুর ঘুম দীর্ঘ হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। আপনি হয়তো শিশুকে স্বতন্ত্রভাবে ঘুমাতে শেখাতে পারবেন, তবে এটি নিশ্চিত করা কঠিন যে সে নিয়মিতভাবে ঘুমের চক্রগুলো একসঙ্গে সংযুক্ত করতে পারবে।

এই কারণেই আমরা সাধারণত এই বয়সে কোনো কঠোর ঘুম প্রশিক্ষণের পরামর্শ দিই না। তবে আমরা জানি, অনেক বাবা-মায়ের জন্য এটি হতাশাজনক হতে পারে—অবশেষে শিশুকে ঘুম পাড়াতে পারলেন, আর কিছুক্ষণের মধ্যেই সে জেগে উঠলো!

এই চ্যালেঞ্জিং সময় মোকাবিলা করতে বাবা-মায়েরা কয়েকটি পথ অনুসরণ করতে পারেন:

১) সহায়ক ঘুম (Assisted Sleep)

হ্যাঁ, ঠিকই পড়েছেন—আমরা সহায়ক ঘুমের কথা বলছি। সত্যি কথা হলো, কিছু ক্ষেত্রে শিশুকে কোলে নিয়ে ঘুমানো, হাঁটতে বের হওয়া বা ব্যাসিনেট-স্টাইলের স্ট্রোলার বা ক্যারিয়ারে রেখে ঘুমানোর সুযোগ দেওয়া সহজতর সমাধান হতে পারে। এতে শিশুর দীর্ঘ সময়ের ঘুম নিশ্চিত করা সম্ভব হয়। তবে অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে যে শিশুর ঘুমানোর পরিবেশ নিরাপদ।

যদি আপনি এই পদ্ধতি অনুসরণ করতে চান, তাহলে দিনে বেশিরভাগ ন্যাপের জন্য শিশুকে তার মূল ঘুমের স্থানে (ক্রিব বা ব্যাসিনেট) রাখতে পারেন, তবে দিনের কোনো একসময় একটি “অ্যাংকর ন্যাপ” বা দীর্ঘ ঘুমের ব্যবস্থা করুন। সাধারণত দুপুরের ন্যাপটি দীর্ঘ করা সবচেয়ে ভালো।

এই কৌশলটি শিশুকে ক্রিব বা ব্যাসিনেটের সাথে ইতিবাচক ঘুমের অভ্যাস গড়ে তুলতে সাহায্য করবে, একইসাথে একটি বড় ন্যাপ নিয়ে শিশুকে সতেজ ও বিশ্রাম নেওয়ার সুযোগ করে দেবে, যা পুরো দিন পার করতে আপনাকেও সহায়তা করবে।

২) ঘন ঘন ন্যাপ (Frequent Sleep)

হ্যাঁ, এটাও ঠিকই পড়েছেন! এই বয়সে ছোট ছোট ন্যাপ নেওয়া (catnaps) একেবারে স্বাভাবিক। আপনাকে কেবল নিশ্চিত করতে হবে যে আপনার শিশু পর্যাপ্ত ক্যাটন্যাপ নিচ্ছে, যাতে সে রাতের ঘুমের সময় পর্যাপ্ত বিশ্রাম পাওয়া অবস্থায় থাকতে পারে। এর মানে হলো, আপনার শিশুকে দিনে ৪, ৫, এমনকি ৬ বার ন্যাপ দিতে হতে পারে

যদি আপনার শিশু নিরাপদ বিকল্প স্থানে ঘুমাতে না চায় বা আপনি সহায়ক ঘুমের (assisted sleep) নির্ভরশীলতা তৈরি করতে না চান, তাহলে ঘন ঘন ন্যাপ করানো একটি কার্যকর এবং উপযুক্ত সমাধান হতে পারে।

গুরুত্বপূর্ণ নোট:
উপরের দুটি পদ্ধতির যেটিই অনুসরণ করুন না কেন, শিশুকে ক্রিব বা ব্যাসিনেটে ঘুমাতে শেখানোর অভ্যাস গড়ে তোলা খুবই সহায়ক। এতে শিশু ঘুমানোর জন্য আপনার সাহায্যের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়বে না।

তবে এর মানে এই নয় যে আপনাকে শিশুর ঘুম প্রশিক্ষণ (sleep training) করাতে হবে। শুধু শিশুকে তার মূল ঘুমের জায়গায় ঘুমানোর সুযোগ দিন, যাতে সে ধীরে ধীরে নিজে থেকে সেখানে ঘুমিয়ে পড়তে অভ্যস্ত হতে পারে।

৩) জেগে ওঠার আগেই প্রস্তুতি নেওয়া (Anticipate Waking)

আপনার শিশুর ছোট ঘুমের চক্র নিয়ে যদি কিছু করার প্রয়োজন মনে হয়, কিন্তু সহায়ক ঘুম (assisted sleep) ব্যবহার করতে না চান, তাহলে এই পদ্ধতি চেষ্টা করতে পারেন।

শিশুর ঘুমের চক্র প্রায়ই নির্দিষ্ট সময়ের হয়—যেমন, ৩২ মিনিট, ৪১ মিনিট ইত্যাদি। প্রথমে আপনার শিশুর ঘুমের চক্র নির্ধারণ করুন এবং ঠিক কখন সে জেগে ওঠে তা লক্ষ্য করুন। এরপর, যখনই আপনি ভাববেন যে সে জেগে উঠতে যাচ্ছে, তার ঘরে গিয়ে প্রস্তুত থাকুন।

যেইমাত্র দেখবেন আপনার শিশু নড়াচড়া করা শুরু করেছে, সঙ্গে সঙ্গে যে কোনো ঘুমের সংকেত (sleep association) পুনরায় তৈরি করুন, যা তাকে আবার ঘুমাতে সাহায্য করতে পারে। যেমন—

✔️ শিশুর পেটে আলতোভাবে হাত রাখা
✔️ কোলে তুলে কিছুক্ষণ দোলানো
✔️ আস্তে আস্তে মাথায় হাত বুলিয়ে দেওয়া

এই পদ্ধতির মূল বিষয় হলো—শিশুকে সম্পূর্ণ জেগে ওঠার আগেই থামানো।

তবে এটি মনে রাখা জরুরি যে এই কৌশল সব শিশুর ক্ষেত্রে কার্যকর নাও হতে পারে। অনেক সময়, যদি শিশুকে কোলে নিতে হয়, তাহলে তাকে আবার ক্রিবে ফেরত রাখা কঠিন হয়ে যায়।

যদিও এটি গ্যারান্টিযুক্ত কোনো সমাধান নয়, তবে অনেক শিশুর ক্ষেত্রে এটি কার্যকর হয়। কারণ, যখন শিশুর ন্যাপ ক্রিব বা ব্যাসিনেটে দীর্ঘ হয়, তখন ধীরে ধীরে বাবা-মায়ের হস্তক্ষেপ ছাড়াই সে দীর্ঘ সময় ঘুমাতে শিখতে পারে। তাই, এটি চেষ্টা করে দেখতে পারেন!

~৬ মাস থেকে টডলার বয়স পর্যন্ত

✅ বেশিরভাগ শিশু একাধিক ঘুমের চক্র সংযুক্ত করতে সক্ষম হয়
✅ তবে সব শিশু দীর্ঘ ন্যাপ নেয় না
✅ যদি মনে করেন আপনার শিশুর ঘুম আরও দরকার, তাহলে ছোট ন্যাপ দীর্ঘ করার চেষ্টা করা যেতে পারে

প্রায় ৬ মাস বয়সের পর থেকে বেশিরভাগ শিশু ন্যাপের সময় একাধিক ঘুমের চক্র (sleep cycle) একসঙ্গে সংযুক্ত করতে সক্ষম হয়। তবে এটি গুরুত্বপূর্ণ যে সব শিশু দীর্ঘ ন্যাপ নেয় না। কিছু শিশুর ঘুমের প্রয়োজন কম হতে পারে, অথবা তাদের রাতের ঘুম দীর্ঘ হলে (যেমন, ১১+ ঘণ্টা রাতের ঘুম) তারা দিনে তুলনামূলক কম ঘুমাতে পারে।

আপনার শিশুর বয়স অনুযায়ী ন্যাপের সাধারণ ধরণ দেখতে আমাদের “বয়স ও ধাপ অনুযায়ী ঘুমের তালিকা” (ages and stages sleep chart) দেখে নিতে পারেন।

যদি আপনি মনে করেন আপনার শিশুর দিনের বেলার ঘুম আরও বেশি দরকার, তবে আপনি ছোট ন্যাপগুলো দীর্ঘ করার জন্য কাজ শুরু করতে পারেন।

See References

Siren-Tiusanen, H. and Robinson, H.A., 2001. Nap schedules and sleep practices in infant-toddler groups. Early Childhood Research Quarterly, 16(4), pp.453-474.

Staton, S., Rankin, P.S., Harding, M., Smith, S.S., Westwood, E., LeBourgeois, M.K. and Thorpe, K.J., 2020. Many naps, one nap, none: A systematic review and meta-analysis of napping patterns in children 0–12 years. Sleep Medicine Reviews, 50, p.101247.

Mason, G.M., Kurdziel, L.B. and Spencer, R.M., 2021. The memory benefits of two naps per day during infancy: A pilot investigation. Infant Behavior and Development, 65, p.101647.

Hupbach, A., Gomez, R.L., Bootzin, R.R. and Nadel, L., 2009. Nap‐dependent learning in infants. Developmental science, 12(6), pp.1007-1012.

Horváth, K., Hannon, B., Ujma, P.P., Gombos, F. and Plunkett, K., 2018. Memory in 3‐month‐old infants benefits from a short nap. Developmental Science, 21(3), p.e12587.

Berger, S.E. and Scher, A., 2017. Naps improve new walkers’ locomotor problem solving. Journal of Experimental Child Psychology, 162, pp.292-300.

DeMasi, A., Horger, M.N., Allia, A.M., Scher, A. and Berger, S.E., 2021. Nap timing makes a difference: Sleeping sooner rather than later after learning improves infants’ locomotor problem solving. Infant Behavior and Development, 65, p.101652.

Thorpe, K., Staton, S., Sawyer, E., Pattinson, C., Haden, C. and Smith, S., 2015. Napping, development and health from 0 to 5 years: a systematic review. Archives of disease in childhood, 100(7), pp.615-622.

Konrad, C., Seehagen, S., Schneider, S. and Herbert, J.S., 2016. Naps promote flexible memory retrieval in 12‐month‐old infants. Developmental Psychobiology, 58(7), pp.866-874.

Seehagen, S., Konrad, C., Herbert, J.S. and Schneider, S., 2015. Timely sleep facilitates declarative memory consolidation in infants. Proceedings of the National Academy of Sciences, 112(5), pp.1625-1629.

Leave a Comment