নবজাতক শিশু কখন ঘুমাতে চায় তা কীভাবে বুঝবেন?

কত ভালো হতো যদি আপনার নবজাতক নিজেই বলতে পারত, কখন সে ঘুমাতে চায়! ভাবুন তো!?! আসলে, সে বলতে পারে!

হ্যাঁ, যদিও আপনার ছোট্ট সোনামণি এখনো কথা বলতে শেখেনি, কিন্তু সে তার ছোট্ট শরীরের মাধ্যমে আপনাকে সংকেত দিতে পারে যে, এখন তার ঘুমের সময় হয়েছে। বিষয়টা শুধু নবজাতকের ঘুমানোর সংকেত (sleepy cues) বোঝার ব্যাপার।

ঘুমানোর সংকেত হল সেই লক্ষণগুলো, যা আপনার শিশু দেখায় যখন সে ক্লান্ত, ঘুমানোর জন্য প্রস্তুত, বা কখনো কখনো অতিরিক্ত ক্লান্ত হয়ে গেছে।

আপনি কি লক্ষ্য করেছেন, শিশুর ঘুমানোর সংকেত ধাপে ধাপে কেমন বেড়ে যায়? কখনো এটা ধীরে ধীরে হয়—প্রথমে সে একদৃষ্টিতে চেয়ে থাকে, তারপর হাই তুলতে শুরু করে, এবং শেষ পর্যন্ত কান্না করে ফেলে। আবার কখনো, আপনার ছোট্ট সোনামণি যেন এক মুহূর্তেই ক্লান্ত থেকে অতিরিক্ত ক্লান্ত হয়ে পড়ে!

এই পর্যায়ের মাঝামাঝি একটা “ঘুমানোর জন্য প্রস্তুত” মুহূর্ত থাকে, যেটাকে আমরা বলতে পারি সুইট স্পট। আপনার শিশুকে আরামদায়কভাবে ঘুমের জন্য প্রস্তুত করতে চাইলে, সেই মধুর মুহূর্তের আগেই ব্যবস্থা নিতে হবে। তাই যখন প্রথম দিকের “আমি ক্লান্ত” সংকেতগুলো দেখতে পান, তখনই ধীরে ধীরে তাকে ঘুমের দিকে প্রস্তুত করতে শুরু করুন।

গুরুত্বপূর্ণ নোট: আপনার শিশু সম্ভবত এই তালিকার সব সংকেত দেখাবে না। হতে পারে, সে গভীর মনোযোগ দিয়ে চেয়ে থাকে, কিন্তু কখনো ভ্রু লাল হয় না। আবার, সে চোখ না ঘষেই অস্থির হয়ে উঠতে পারে। এমনকি, আপনি এমন কিছু ঘুমানোর সংকেতও লক্ষ্য করতে পারেন, যা এখানে উল্লেখ করা হয়নি।

যত বেশি আপনি আপনার শিশুর আচরণ খেয়াল করবেন, তত সহজ হবে তার নিজস্ব ঘুমানোর সংকেত চিনে নেওয়া। 💙

যদি আমি কখনো শিশুর ঘুমানোর সংকেত না দেখি, তাহলে কী হবে?

এটা সম্ভব! দৈনন্দিন ব্যস্ততার মধ্যে শিশুর ঘুমানোর সংকেত সহজেই মিস হয়ে যেতে পারে। হয়তো আপনি বুঝতে পারছেন না যে, সে ক্লান্ত, আর যখন খেয়াল করছেন, তখন সে ইতোমধ্যেই “আমি অতিরিক্ত ক্লান্ত” পর্যায়ে পৌঁছে গেছে।

তাহলে কী করবেন?

একটি কার্যকর উপায় হলো আপনার শিশুর জাগ্রত সময় (wake window) সম্পর্কে জানা

জাগ্রত সময় হল, এক ঘুম থেকে উঠার পর থেকে পরবর্তী ঘুমের আগ পর্যন্ত আপনার শিশুর জেগে থাকার সময়কাল। নবজাতকদের জন্য সাধারণত এটি ৬০-৯০ মিনিট হয়।

আপনার শিশুর বয়স অনুযায়ী উপযুক্ত জাগ্রত সময় মেনে চললে, সে সহজেই ঘুমিয়ে পড়বে এবং দীর্ঘ সময় ঘুমিয়ে থাকতে পারবে। নবজাতকদের ক্ষেত্রে আমরা ঘড়ির সময়ের চেয়ে ঘুমানোর সংকেত বেশি গুরুত্ব দেব, তবে জাগ্রত সময় সম্পর্কে সচেতন থাকলে, কখন সেই সংকেতগুলোর জন্য নজর রাখা উচিত, তা সহজেই বুঝতে পারবেন।

যদি আমার নবজাতক পুরো জাগ্রত সময় শেষ হওয়ার আগেই ঘুমানোর সংকেত দেখায়?

আমাদের লক্ষ্য হলো শিশুকে অতিরিক্ত ক্লান্ত না করেই পূর্ণ জাগ্রত সময় (wake window) বজায় রাখা। তবে কিছু শিশু মাঝে মাঝে হালকা হাই তুলতে পারে বা চোখ সরিয়ে নিতে পারে, যা সবসময় ঘুমানোর সংকেত নাও হতে পারে। হতে পারে, সে শুধু কিছু সময়ের জন্য বিরতি চাচ্ছে বা নতুন কিছুতে মনোযোগ দিতে চাইছে।

তাহলে কী করবেন?

পরিবেশ পরিবর্তন করুন – পুরো জাগ্রত সময় শেষ হওয়ার আগেই যদি আপনার শিশু ঘুমানোর সংকেত দেখায়, তাহলে তার আশপাশের পরিবেশ একটু বদলান।
নতুন কিছু করুন – শিশুকে বাইরে নিয়ে যান, অন্য কোনো হালকা খেলা যোগ করুন, বা তাকে নতুনভাবে ব্যস্ত রাখুন। অনেক সময় একটু ভিন্ন কিছু করলেই সে আবার স্বাভাবিকভাবে জেগে থাকতে পারে এবং পূর্ণ জাগ্রত সময় পর্যন্ত থাকতে পারবে।

তবে, যদি কয়েক মিনিটের মধ্যেও সে একই সংকেত দেখাতে থাকে বা “আমি এখন ঘুমাতে চাই!” পর্যায়ে চলে যায়, তাহলে দেরি না করে তাকে ঘুমানোর সুযোগ দিন। কারণ, আমরা চাই শিশুর বিকাশের স্বাভাবিক ধাপগুলোর সাথে তাল মিলিয়ে চলতে। 💙

শিশুরা কখন ঘুমানোর সংকেত দেখানো বন্ধ করে?

শিশু, টডলার এমনকি বড়রাও ঘুমানোর সংকেত দেখায়! তাই এটি একেবারে “বন্ধ” হয় না, বরং সময়ের সাথে পরিবর্তিত হয় এবং ঘুমের সঠিক সময় নির্ধারণের জন্য কম নির্ভরযোগ্য হয়ে যায়।

নবজাতক অবস্থায় ঘুমানোর সংকেত সবচেয়ে বেশি কাজে দেয়। কিন্তু বয়স বাড়ার সাথে সাথে, শুধু সংকেতের ওপর নির্ভর না করে উপযুক্ত জাগ্রত সময় (wake window)-এর সাথে ভারসাম্য রাখা জরুরি।

কেন এটা গুরুত্বপূর্ণ?

আমরা চাই, আপনার শিশু যথেষ্ট ক্লান্ত থাকুক যাতে সে সহজে ঘুমিয়ে পড়তে পারে এবং ভালোভাবে ঘুমাতে পারে। তবে, তাকে অতিরিক্ত ক্লান্ত করাও ঠিক নয়। তাই, ঘুমানোর সংকেতের পাশাপাশি বয়স অনুযায়ী জাগ্রত সময় মেনে চললে শিশুর ঘুমের রুটিন আরও সুসংগঠিত হবে।

যদি আপনার শিশু অতিরিক্ত ক্লান্ত হয়ে যায়, তাহলে কী করবেন?

কখনো কখনো, সব চেষ্টা করলেও সঠিক সময়টা (sweet spot) মিস হয়ে যায়, আর শিশুটি অতিরিক্ত ক্লান্ত হয়ে পড়ে। তখন সে ঘুমানোর প্রয়োজন থাকলেও ঘুমাতে চাইবে না, বারবার বিরক্ত হবে বা কান্না করবে।

বিশেষ করে দিনের শেষ দিকে ঘুমানোর সংকেত মিস করা সহজ, যা অনেক সময় “witching hour” বা সন্ধ্যার দিকে অতিরিক্ত কান্নার কারণ হতে পারে। এটিই অনেক ক্ষেত্রে “কোলিক” বলে মনে হয়।

কিছু উপায়:

শান্ত পরিবেশে যান – শিশুকে নিয়ে কোনো নীরব ঘরে যান, যেখানে কম আলো ও কম শব্দ থাকবে।
হালকা আলো দিন – ঘরের আলো কমিয়ে দিন বা নরম আলো ব্যবহার করুন।
স্ক্রিন বন্ধ করুন – টিভি, মোবাইল বা অন্য স্ক্রিন থেকে শিশুকে দূরে রাখুন।
সাউন্ড মেশিন চালু করুন – হালকা শোঁ শোঁ শব্দ বা লো ভলিউমে ঘুমের জন্য আরামদায়ক শব্দ চালিয়ে দিন।
হালকা দোলানো বা বুকের দুধ/বোতল খাওয়ানো – কিছু শিশু দোল খেতে বা খাওয়ার সময় সহজে ঘুমিয়ে পড়ে।

এই কৌশলগুলো চেষ্টা করলে আপনার অতিরিক্ত ক্লান্ত শিশুকে শান্ত করা সহজ হবে, এবং সে আরাম করে ঘুমিয়ে পড়তে পারবে।

এইবার ঘুমানোর সংকেত মিস হয়ে গেলে, চিন্তার কিছু নেই!

নিজেকে দোষারোপ করবেন না—সব বাবা-মায়েরই কখনো না কখনো এমন হয়। পরের ঘুম বা রাতের বেলায় আবার চেষ্টা করুন। প্রতিবারই আপনি আপনার শিশুর সংকেতগুলো আরও ভালোভাবে বুঝতে শিখবেন।

যদি ঘুম সবসময় কঠিন মনে হয়…

আপনার শিশুর ঘুমের রুটিন সহজ করতে সাহায্যের প্রয়োজন হলে, আমি সাহায্য করতে পারি!

আমার “Will I Ever Sleep Again?” নবজাতক বিষয়ক ক্লাসে, আমি ঘুমানোর সংকেত সম্পর্কে আরও গভীরে যাবো এবং দেখাবো কিভাবে শিশুর জন্য একটি সুস্থ ঘুমের অভ্যাস তৈরি করা যায়। আমার লক্ষ্য? আপনার নবজাতক সময়টাকে উপভোগ্য করে তোলা!

মনে রাখবেন: এই ব্লগের তথ্য এবং কন্টেন্ট শুধুমাত্র তথ্যগত উদ্দেশ্যে দেওয়া হয়েছে, যা চিকিৎসা পরামর্শ হিসেবে নেওয়া উচিত নয়। আপনার শিশুর স্বাস্থ্যের বিষয়ে কোনো প্রশ্ন বা উদ্বেগ থাকলে, অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিন। 

Leave a Comment