নবজাতক শিশুর সাপ্তাহভিত্তিক ঘুমের রুটিন, ঘুমের ধরণ এবং ভালো ঘুমের জন্য উপকারী টিপস!

লেখক পরিচিতি
নিকোল জনসন একজন অভিজ্ঞ শিশু ঘুম পরামর্শক। তিনি ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, বার্কলে থেকে ব্যাচেলর এবং ওহাইও স্টেট ইউনিভার্সিটি থেকে এমবিএ সম্পন্ন করেছেন। তিনি International Association of Child Sleep Consultants-এর বোর্ড সদস্য এবং দীর্ঘ ১৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে হাজার হাজার পরিবারকে তাদের শিশুর ঘুমের সমস্যার সমাধানে সহায়তা করে আসছেন।
newborn-sleep-schedules

আপনি কি নবজাতকের সাপ্তাহিক ঘুমের সময়সূচি খুঁজছেন?

নবজাতকদের প্রতিদিন ১৪ থেকে ১৭ ঘণ্টা ঘুমের প্রয়োজন হয় (দিনে প্রায় ৮ ঘণ্টা আর রাতে ৮ ঘণ্টা)। তারা একটানা ১ থেকে ২ ঘণ্টার বেশি জাগতে পারে না, আর তাদের ঘুমের ধরণ দ্রুত বদলে যায়। প্রথম দিকে নবজাতকেরা সাধারণত সারাদিন খায়, পায়খানা করে আর ঘুমায়।

তাহলে নবজাতকের সাপ্তাহিক ঘুমের সময়সূচি কেমন হয়?

এই পোস্টে নবজাতকের সাপ্তাহিক ঘুমের নমুনা সময়সূচি, তাদের ঘুমের ধরণ সম্পর্কে তথ্য, আর ভালো ঘুম নিশ্চিত করার জন্য কিছু কার্যকর টিপস শেয়ার করা হয়েছে।

আপনার শিশুর ঘুমের অভ্যাস বোঝার জন্য এবং তাকে ভালো ঘুমাতে সাহায্য করতে এই তথ্যগুলো আপনার কাজে লাগবে! 😊

০–৪ সপ্তাহ ৫–৮ সপ্তাহ ৯–১২ সপ্তাহ ১৩–১৬ সপ্তাহ
১ সপ্তাহ ৫ সপ্তাহ ৯ সপ্তাহ ১৩ সপ্তাহ
২ সপ্তাহ ৬ সপ্তাহ ১০ সপ্তাহ ১৪ সপ্তাহ
৩ সপ্তাহ ৭ সপ্তাহ ১১ সপ্তাহ ১৫ সপ্তাহ
৪ সপ্তাহ ৮ সপ্তাহ ১২ সপ্তাহ ১৬ সপ্তাহ

১-সপ্তাহ বয়সী নবজাতক শিশুর ঘুমের সময়সূচি, বিকাশ এবং ঘুমের ধরণ

ঘুমের ধরণ

১ সপ্তাহ বয়সী নবজাতক প্রতিদিন প্রায় ১৬-১৮ ঘণ্টা বা তারও বেশি ঘুমায়। এ সময়ে শিশুরা সাধারণত ২ ঘণ্টা করে “টুকরো টুকরো” ঘুমায় এবং তাদের এত ঘন ঘন খাওয়ানোর প্রয়োজন হয়। সঠিক ওজন বাড়ানোর জন্য এবং, যদি আপনি বুকের দুধ খাওয়ান, দুধের সরবরাহ নিশ্চিত করতে, ১ সপ্তাহ বয়সী শিশুকে ঘন ঘন খাওয়ানো খুবই জরুরি।

তাই, যদি আপনার শিশু ২ ঘণ্টার বেশি ঘুমাতে চায়, তাহলেও তাকে জাগিয়ে খাওয়াতে হবে। বেশিরভাগ সময় দেখা যাবে, খাওয়ানো এবং ডায়াপার বদলের পর আপনার শিশু আবার ঘুমিয়ে পড়বে। অথবা, অন্তত আপনার মনে হতে পারে যে তারা সারাক্ষণই ঘুমোচ্ছে!

আরেকটি বিষয় মনে রাখা গুরুত্বপূর্ণ, আপনার শিশুর “রাতের ঘুম” এখনো খুব বেশি দীর্ঘ হবে না। প্রকৃতপক্ষে, নবজাতকের ঘুমের সময়সূচিতে দেরিতে ঘুমানোর প্রবণতা স্বাভাবিক, এবং অনেক নবজাতক দিন আর রাতের সময় গুলিয়ে ফেলে। এর মানে, যদি তারা জেগে থাকে, তাহলে সেটি রাতে, যখন আপনি ঘুমাচ্ছেন। আর দিনের বেলা তারা খুব দীর্ঘ সময় ঘুমায়।

স্বাভাবিকভাবেই, আপনি হয়তো চাইবেন তারা এভাবে দীর্ঘ সময় রাতে ঘুমাক। যদি এমন হয়, তবে আপনার নবজাতকের দিন-রাতের বিভ্রান্তি ঠিক করার কথা ভাবা উচিত, যদি না তারা নিজেরাই পরের এক-দুই সপ্তাহে এটি ঠিক করে ফেলে।

১ সপ্তাহ বয়সী নবজাতকের ঘুমের সময়সূচি কোনো নির্দিষ্ট সময় ধরে হবে না। বরং, আপনাকে আপনার শিশুকে তার প্রয়োজন অনুযায়ী খাওয়াতে হবে এবং ঘুমানোর সময় ক্লান্তির লক্ষণ দেখালে ঘুমাতে দিতে হবে।

এ বয়সে শিশুরা সাধারণত ৪৫ মিনিটের বেশি জেগে থাকতে পারে না এবং প্রতি দুই ঘণ্টা পরপর খাওয়ার প্রয়োজন হয়। তাদের জেগে থাকার সময় খুবই কম।

আপনার দিনের রুটিন কেমন হতে পারে তা এখানে তুলে ধরা হলো। তবে এটি প্রতিটি শিশুর জন্য ভিন্ন হতে পারে এবং দিন দিনও পরিবর্তন হতে পারে। কিছু কিছু ঝটপট ঘুম দীর্ঘ সময় ধরে চলতে পারে, আবার কিছুটা ছোট হতে পারে:

ঘুমের সময়সূচি

সময়কার্যক্রম
সকাল ৭:০০জাগা এবং ডায়াপার পরিবর্তন
সকাল ৭:১৫দুধ খাওয়ানো
সকাল ৭:৪৫ঘুম
সকাল ৯:১৫দুধ খাওয়ানো এবং ডায়াপার পরিবর্তন
সকাল ৯:৩০ঘুম (খাওয়ার পরে হয়তো আবার ঘুমিয়ে যাবে)
সকাল ১১:১৫দুধ খাওয়ানো এবং ডায়াপার পরিবর্তন
দুপুর ১২:০০ঘুম
দুপুর ১:১৫দুধ খাওয়ানো এবং ডায়াপার পরিবর্তন
দুপুর ২:০০ঘুম
বিকাল ৩:১৫দুধ খাওয়ানো এবং ডায়াপার পরিবর্তন
বিকাল ৩:৩০ঘুম (খাওয়ার পরে হয়তো আবার ঘুমিয়ে যাবে)
বিকাল ৫:১৫দুধ খাওয়ানো এবং ডায়াপার পরিবর্তন
সন্ধ্যা ৬:০০ঘুম
সন্ধ্যা ৭:১৫দুধ খাওয়ানো এবং ডায়াপার পরিবর্তন
রাত ৮:০০ঘুম
রাত ৯:১৫দুধ খাওয়ানো এবং ডায়াপার পরিবর্তন
রাত ১০:০০রাতের ঘুম
রাত ১১:১৫দুধ খাওয়ানো এবং ডায়াপার পরিবর্তন
রাত ১:১৫দুধ খাওয়ানো এবং ডায়াপার পরিবর্তন
রাত ৩:১৫দুধ খাওয়ানো এবং ডায়াপার পরিবর্তন
ভোর ৫:১৫দুধ খাওয়ানো এবং ডায়াপার পরিবর্তন

নবজাতকের ঘুমের ধরন একটু একঘেয়ে হতে পারে। তবে চিন্তার কিছু নেই, আপনার শিশুটি বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সবকিছু আরও মজার হয়ে উঠবে। 😉

২-সপ্তাহ বয়সী শিশুর ঘুমের সময়সূচি এবং ঘুমের ধরণ

ঘুমের ধরন:

২ সপ্তাহ বয়সে কি আপনি ভাবছেন, সবকিছু ঠিকঠাক করছেন কিনা? চিন্তা করবেন না, এটা একদম স্বাভাবিক!

২ সপ্তাহ বয়সী শিশুর ঘুমের ধরন ১ সপ্তাহ বয়সীর চেয়ে খুব বেশি আলাদা নয়। আপনার শিশুটি প্রায় পুরো দিন ঘুমিয়ে কাটাবে, গড়ে মোট ১৬ ঘণ্টার মতো। তবে, এই ঘুম টুকরো টুকরো হয়ে থাকে, যেখানে কিছু ঘুম অন্যগুলোর চেয়ে লম্বা হতে পারে।

যদি আপনার শিশুর এখনো দিন-রাতের বিভ্রান্তি থেকে থাকে, তাহলে প্রতিদিন বেশ কয়েকবার অন্তত ৪৫ মিনিট ধরে তাকে জাগিয়ে রাখার চেষ্টা করতে পারেন এবং ২-৩ ঘণ্টার বেশি দীর্ঘ ঘুম এড়িয়ে চলুন।

যদি আপনার শিশু কেবল আপনার কোলে ঘুমাতে চায়, তাহলে দিনগুলো কিছুটা চ্যালেঞ্জিং হতে পারে, বিশেষ করে যদি সাহায্যের কেউ না থাকে। তবে, যদি আপনার শিশু পাশের বেডের ব্যাসিনেটে ঘুমায়, তাহলে আপনি হয়তো ভাবার চেয়েও বেশি সময় হাতে পাবেন! যদি এমন হয়, তাহলে আগামী সপ্তাহগুলোর জন্য নিজে একটু বিশ্রাম নিয়ে নিন। 😉

এভাবেই আপনার দিনের রুটিন দেখতে পারে… তবে এটি শিশুর ওপর নির্ভর করে ভিন্ন হতে পারে, এমনকি প্রতিদিনও কিছুটা পরিবর্তন হতে পারে। আপনার নবজাতকের কিছু ঘুম হয়তো অন্যগুলোর চেয়ে বেশি দীর্ঘ হবে।

২ সপ্তাহ বয়সী শিশুর কতক্ষণ ঘুমানো উচিত?

জীবনের প্রথম কয়েক সপ্তাহ এবং মাসে নবজাতকরা প্রচুর ঘুমায়। ২ সপ্তাহ বয়সী শিশুর ক্ষেত্রে আমরা প্রায় ১৫.৫ ঘণ্টা ঘুম আশা করি, তবে কিছু শিশুর এর চেয়ে বেশি বা কম ঘুমানোও অস্বাভাবিক নয়। আমেরিকান একাডেমি অফ পেডিয়াট্রিকস (AAP) অনুসারে, নবজাতকরা সাধারণত প্রতিদিন ১৬-১৭ ঘণ্টা ঘুমায়। তবে এই বয়সে ঘুমের সময়ের দৈর্ঘ্য এবং ঘনত্ব অনেকটাই ভিন্ন হতে পারে। কিছু সময় ঘুম মাত্র ৩০ মিনিট হতে পারে, আবার কখনো ২ ঘণ্টা পর্যন্তও হতে পারে—দুটোই একদম স্বাভাবিক।

নবজাতকরা সাধারণত ৩-৪ মাস বয়সের কাছাকাছি না আসা পর্যন্ত খাবার এবং ঘুমের জন্য নিয়মিত ২৪ ঘণ্টার চক্র তৈরি করে না। এমনকি তখনও, আমরা ৬ মাস বা তার বেশি বয়সে তাদের দেহঘড়ি (circadian rhythm) আরও ভালোভাবে বিকাশ না হওয়া পর্যন্ত “ঘড়ি ধরে” ঘুমের রুটিন তৈরি করার সুপারিশ করি না।

এই বয়সে, আপনার শিশু সম্ভবত ৩০-৯০ মিনিটের মতো জেগে থাকতে পারে। আপনার মনে হতে পারে, এই সময়ে আপনি শুধু শিশুকে খাওয়ানো, ডায়াপার পরিবর্তন করা, এবং সামান্য tummy time দেওয়ার সুযোগই পাচ্ছেন, তারপরই সে আবার ঘুমিয়ে পড়ে। এটা একদম স্বাভাবিক। নবজাতকের এই আচরণ দেখিয়ে দেয় যে, তারা এখনো মায়ের গর্ভের বাইরের জীবনের সাথে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে, আর এটা খুবই ক্লান্তিকর কাজ।

আপনি সবকিছু ঠিকঠাক করছেন। নিজেকে বিশ্বাস করুন এবং শিশুর প্রয়োজন অনুযায়ী এগিয়ে যান। 😊

ঘুমের সময়সূচি:

সময়কার্যক্রম
সকাল ৭:০০জাগা এবং ডায়াপার পরিবর্তন
সকাল ৭:১৫দুধ খাওয়ানো
সকাল ৭:৪৫ঘুম
সকাল ৯:১৫দুধ খাওয়ানো এবং ডায়াপার পরিবর্তন
সকাল ৯:৩০ঘুম (খাওয়ার পরে হয়তো আবার ঘুমিয়ে যাবে)
সকাল ১১:১৫দুধ খাওয়ানো এবং ডায়াপার পরিবর্তন
দুপুর ১২:০০ঘুম
দুপুর ১:১৫দুধ খাওয়ানো এবং ডায়াপার পরিবর্তন
দুপুর ২:০০ঘুম
বিকাল ৩:১৫দুধ খাওয়ানো এবং ডায়াপার পরিবর্তন
বিকাল ৩:৩০ঘুম (খাওয়ার পরে হয়তো আবার ঘুমিয়ে যাবে)
বিকাল ৫:১৫দুধ খাওয়ানো এবং ডায়াপার পরিবর্তন
সন্ধ্যা ৬:০০ঘুম
সন্ধ্যা ৭:১৫দুধ খাওয়ানো এবং ডায়াপার পরিবর্তন
রাত ৮:০০ঘুম
রাত ৯:১৫দুধ খাওয়ানো এবং ডায়াপার পরিবর্তন
রাত ১০:০০রাতে ঘুম
রাত ১১:১৫দুধ খাওয়ানো এবং ডায়াপার পরিবর্তন
রাত ১:১৫দুধ খাওয়ানো এবং ডায়াপার পরিবর্তন
রাত ৩:১৫দুধ খাওয়ানো এবং ডায়াপার পরিবর্তন
ভোর ৫:১৫দুধ খাওয়ানো এবং ডায়াপার পরিবর্তন

দুধ খাওয়ানোর চাহিদা ভিন্ন হতে পারে, তাই আমরা পরামর্শ দিই আপনার শিশুর চাহিদা অনুযায়ী খাওয়ানোর। তবে, আপনার চিকিৎসকের ভিন্ন নির্দেশনা থাকলে তা অনুসরণ করুন।

৩-সপ্তাহ বয়সী নবজাতক শিশুর ঘুমের সময়সূচি এবং ঘুমের ধরণ

ঘুমের ধরণ:

৩ সপ্তাহ বয়সে আপনার নবজাতক শিশু দিনে একটু বেশি সময় জেগে থাকতে শুরু করতে পারে — প্রায় এক ঘণ্টা পর্যন্ত। তবে এখনো ২৪ ঘণ্টায় প্রায় ১৬ ঘণ্টা ঘুমের প্রয়োজন হয়। এ সময় শিশুটি একটু বিরক্তিকর বা কান্নাকাটি বেশি করতে পারে, যা একদম স্বাভাবিক। কারণ, অনেক সময়ই নবজাতকেরা বাইরের পরিবেশের সাথে মানিয়ে নিতে একটু সময় নেয়। তাদের স্নায়ুতন্ত্র (সেন্ট্রাল নার্ভাস সিস্টেম) ধীরে ধীরে পরিপক্ক হচ্ছে।

আপনার শিশুর চিকিৎসক বা স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীর সঙ্গে কথা বলুন — এখনো কি খাওয়ানোর জন্য ঘুম থেকে জাগানো দরকার কি না, তা নিশ্চিত হতে। যদি আপনার শিশু ভালোভাবে ওজন বাড়াচ্ছে, তাহলে চিকিৎসক রাতের ঘুম একটু দীর্ঘ করতে দিতে পারেন। এছাড়াও, অনেক সময় নবজাতকরা এই বয়সে দিনে বারবার খায়, কিন্তু রাতে অন্তত একবার দীর্ঘ সময় ঘুমায়। যদিও এখনো নির্দিষ্ট কোনো ঘুমের রুটিন চলে না, তবুও আপনার দিনের চিত্রটা অনেকটা এ রকম হতে পারে:

ঘুমের সময়সূচি:

সময়কার্যক্রম
সকাল ৭:০০জাগা এবং ডায়াপার পরিবর্তন
সকাল ৭:১৫দুধ খাওয়ানো
সকাল ৮:০০ছোট ঘুম (Nap)
সকাল ৯:১৫দুধ খাওয়ানো এবং ডায়াপার পরিবর্তন
সকাল ৯:৩০ছোট ঘুম (Nap) (খাওয়ার পরে হয়তো আবার ঘুমিয়ে যাবে)
সকাল ১১:১৫দুধ খাওয়ানো এবং ডায়াপার পরিবর্তন
দুপুর ১২:১৫ছোট ঘুম (Nap)
দুপুর ১:১৫দুধ খাওয়ানো এবং ডায়াপার পরিবর্তন
দুপুর ২:১৫ছোট ঘুম (Nap)
বিকাল ৩:১৫দুধ খাওয়ানো এবং ডায়াপার পরিবর্তন
বিকাল ৩:৩০ছোট ঘুম (Nap) (খাওয়ার পরে হয়তো আবার ঘুমিয়ে যাবে)
বিকাল ৫:১৫দুধ খাওয়ানো এবং ডায়াপার পরিবর্তন
সন্ধ্যা ৬:১৫ছোট ঘুম (Nap)
সন্ধ্যা ৭:১৫দুধ খাওয়ানো এবং ডায়াপার পরিবর্তন
রাত ৮:১৫ছোট ঘুম (Nap)
রাত ৯:১৫দুধ খাওয়ানো এবং ডায়াপার পরিবর্তন
রাত ১০:০০রাতের ঘুম
রাত ১:০০দুধ খাওয়ানো এবং ডায়াপার পরিবর্তন
রাত ৩:০০দুধ খাওয়ানো এবং ডায়াপার পরিবর্তন
ভোর ৫:০০দুধ খাওয়ানো এবং ডায়াপার পরিবর্তন

আবারও বলি, কোন কোন ছোট ঘুম (Nap) দীর্ঘ হবে — তা একেকটি শিশুর ক্ষেত্রে ভিন্ন হতে পারে, এমনকি একই শিশুর জন্যও দিনভেদে বদলাতে পারে।

৪-সপ্তাহ/১-মাস বয়সী নবজাতক শিশুর ঘুমের সময়সূচি এবং ঘুমের ধরণ

ঘুমের ধরণ:

৪ সপ্তাহ বা ১ মাস বয়সে, আপনার শিশুর এখনো প্রতিদিন প্রায় ১৪-১৬ ঘণ্টা ঘুমের প্রয়োজন হবে এবং দিনে কিছুটা বেশি সময় জেগে থাকতে শুরু করবে। ঘুমের রুটিন এখনো বেশ শিথিল থাকে এবং দিনভেদে ভিন্ন হতে পারে, তবে কিছু শিশুর ঘুম ধীরে ধীরে কিছুটা নিয়মিত হতে শুরু করে।

ভাগ্য ভালো হলে, কিছু ৪ সপ্তাহ বয়সী নবজাতক রাতে এক বা দুইবার লম্বা সময় ধরে ঘুমাতে শুরু করে। আপনার শিশুর চিকিৎসক বা স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীর সঙ্গে কথা বলুন — এখনো কি খাওয়ানোর জন্য জাগানো দরকার কি না, তা নিশ্চিত হতে। যদি আপনার শিশু ভালোভাবে ওজন বাড়াচ্ছে, তাহলে চিকিৎসক দিনে ও রাতে একটু দীর্ঘ সময় ঘুমাতে দিতে পারেন — এবং এটা সত্যিই দারুণ অনুভব হবে! যদি আপনি শিশুকে ঘুম পাড়াতে হিমশিম খান, তাহলে “How to Get Your Newborn to Sleep at Night” পড়ে দেখতে পারেন।

এই বয়সে বুকের দুধ খাওয়া শিশুরা অনেক সময় ফর্মুলা দুধ খাওয়া শিশুর চেয়ে বেশি ঘন ঘন খেতে চায়। উদাহরণস্বরূপ, আমার ছেলে ছিল বুকের দুধ খাওয়া — দিনে ২ থেকে ২.৫ ঘণ্টার বেশি খিদে না পেলে না, আবার অনেক ফর্মুলা দুধ খাওয়া শিশু ৩ ঘণ্টা পর পর খেতে পারে। এছাড়াও, এই বয়সে ক্লাস্টার ফিডিং এবং সন্ধ্যার সময় একটু বিরক্তিকর মেজাজ দেখা যেতে পারে।

ঘুমের সময়সূচি:

সময়কার্যক্রম
সকাল ৭:০০জাগা এবং ডায়াপার পরিবর্তন
সকাল ৭:১৫দুধ খাওয়ানো
সকাল ৮:০০ছোট ঘুম (Nap)
সকাল ৯:৪৫দুধ খাওয়ানো এবং ডায়াপার পরিবর্তন
সকাল ১১:০০ছোট ঘুম (Nap)
দুপুর ১২:১৫দুধ খাওয়ানো এবং ডায়াপার পরিবর্তন
দুপুর ১:১৫ছোট ঘুম (Nap)
দুপুর ২:৪৫দুধ খাওয়ানো এবং ডায়াপার পরিবর্তন
বিকাল ৩:৪৫ছোট ঘুম (Nap)
বিকাল ৫:১৫দুধ খাওয়ানো এবং ডায়াপার পরিবর্তন
সন্ধ্যা ৬:১৫ছোট ঘুম (Nap)
সন্ধ্যা ৬:৪৫দুধ খাওয়ানো (ক্লাস্টার ফিড)
সন্ধ্যা ৭:৪৫দুধ খাওয়ানো (ক্লাস্টার ফিড)
রাত ৮:১৫ছোট ঘুম (Nap)
রাত ৮:৪৫দুধ খাওয়ানো (ক্লাস্টার ফিড)
রাত ৯:৪৫দুধ খাওয়ানো এবং ডায়াপার পরিবর্তন
রাত ১০:০০রাতের ঘুম
রাত ২:০০দুধ খাওয়ানো এবং ডায়াপার পরিবর্তন
ভোর ৫:০০দুধ খাওয়ানো এবং ডায়াপার পরিবর্তন

যেমন আপনি দেখছেন, এখন রাতে একবার কম দুধ খাওয়াতে হতে পারে এবং শিশুর ঘুমের সময়ও একটু দীর্ঘ হতে পারে (ইনশাআল্লাহ!)

৫-সপ্তাহ বয়সী নবজাতক শিশুর ঘুমের সময়সূচি এবং ঘুমের ধরণ

ঘুমের ধরণ:

৫ সপ্তাহ বয়সী শিশুর এখনো প্রতিদিন প্রায় ১৪-১৬ ঘণ্টা ঘুমের প্রয়োজন হয় এবং একটানা এক ঘণ্টার বেশি জেগে থাকতে পারে না। কিছু শিশুর একটু বেশি সময় লাগতে পারে জেগে থাকার ক্ষমতা গড়ে তুলতে, তবে ১ থেকে ১.৫ ঘণ্টা জেগে থাকা বেশ স্বাভাবিক। সব শিশু নিজের গতিতে বেড়ে ওঠে, তাই যদি আপনার শিশু এখনো প্রায় পুরো দিন ঘুমিয়ে কাটায় এবং চিকিৎসক এতে উদ্বিগ্ন না হন, তাহলে চিন্তার কিছু নেই। আবার, যদি আপনার শিশু দিনে অনেক বেশি সময় জেগে থাকে — সেটাও স্বাভাবিক। অর্থাৎ, নবজাতকের ঘুমের ধরণ খুব দ্রুত পরিবর্তন হয়! ধীরে ধীরে আপনার শিশু দিনে আরও বেশি সময় জেগে থাকতে শিখবে কারণ এখন সে বাইরের উত্তেজনা সামলাতে পারছে।

নবজাতকের ঘুমের চক্র সাধারণত ৩০-৪০ মিনিটের হয়ে থাকে। তাই যদি আপনার শিশু ছোট ঘুম (Nap) এর মাঝপথে জেগে ওঠে, সেটাই স্বাভাবিক। দুর্ভাগ্যবশত, আগামী কয়েক সপ্তাহে এই বিষয়টি একটু বেশি সমস্যার কারণ হতে পারে। এখনো যদি আপনি শিশুকে সুয়াডল করে ঘুম পাড়ান, তাহলে তা তাকে ঘুমিয়ে থাকতে সাহায্য করবে। যদি ঘুমের চক্রের মাঝে শিশুর মোরো রিফ্লেক্স (হঠাৎ চমকে ওঠা) তাকে জাগিয়ে দেয়, তাহলে সুয়াডল থাকা অবস্থায় সে আবার ঘুমিয়ে যেতে পারে।

এখানে একটি ৫ সপ্তাহ বয়সী শিশুর ঘুমের রুটিন দেওয়া হলো। তবে মনে রাখবেন, এটি শিশুভেদে অনেকটা ভিন্ন হতে পারে এবং আপনাকে এখনো তার ঘুমন্ত ভাব বা ক্লান্তির ইঙ্গিত দেখে ঘুম পাড়াতে হবে:

ঘুমের সময়সূচি:

সময়কার্যক্রম
সকাল ৭:০০জাগা এবং ডায়াপার পরিবর্তন
সকাল ৭:১৫দুধ খাওয়ানো
সকাল ৮:১৫ছোট ঘুম (Nap)
সকাল ৯:৪৫দুধ খাওয়ানো এবং ডায়াপার পরিবর্তন
সকাল ১১:১৫ছোট ঘুম (Nap)
দুপুর ১২:১৫দুধ খাওয়ানো এবং ডায়াপার পরিবর্তন
দুপুর ১:৩০ছোট ঘুম (Nap)
দুপুর ২:৪৫দুধ খাওয়ানো এবং ডায়াপার পরিবর্তন
বিকাল ৪:১৫ছোট ঘুম (Nap)
বিকাল ৫:১৫দুধ খাওয়ানো এবং ডায়াপার পরিবর্তন
সন্ধ্যা ৬:৩০ছোট ঘুম (Nap)
সন্ধ্যা ৭:০০দুধ খাওয়ানো (ক্লাস্টার ফিড)
রাত ৮:০০দুধ খাওয়ানো (ক্লাস্টার ফিড)
রাত ৮:১৫ছোট ঘুম (Nap)
রাত ৮:৪৫দুধ খাওয়ানো (ক্লাস্টার ফিড)
রাত ৯:৪৫দুধ খাওয়ানো এবং ডায়াপার পরিবর্তন
রাত ১০:০০রাতের ঘুম
রাত ২:০০দুধ খাওয়ানো এবং ডায়াপার পরিবর্তন
ভোর ৫:০০দুধ খাওয়ানো এবং ডায়াপার পরিবর্তন

৬-সপ্তাহ বয়সী নবজাতক শিশুর ঘুমের সময়সূচি এবং ঘুমের ধরণ

ঘুমের ধরণ:

৬ সপ্তাহ বয়সী শিশুর সাধারণত প্রতিদিন প্রায় ১৪-১৬ ঘণ্টা ঘুমের প্রয়োজন হয় এবং ধীরে ধীরে ৪-৫টি ছোট ঘুম (Nap)-এর একটি রুটিনের দিকে আগাতে শুরু করে। সাধারণত প্রথম ন্যাপটাই সবচেয়ে আগে গঠিত হয় এবং একটু দীর্ঘ হয় — ফলে সেটি সবচেয়ে নিয়মিত হয়ে ওঠে। যদি আপনার শিশু কান্নাকাটি বেশি করে, তবে এই বয়সেই সাধারণত কান্নার পরিমাণ সর্বোচ্চ হয়। এই সময় শিশুর ৬ সপ্তাহের গ্রোথ স্পার্টও (বিকাশের দ্রুত ধাপ) চলতে পারে এবং সে আরও সামাজিক হয়ে উঠতে শুরু করে। সন্ধ্যার সময় কান্নাকাটি বা অস্থিরতা এই বয়সেও খুব সাধারণ।

এই সময় অনেক শিশুর রাতের ঘুম একটু আগেভাগে শুরু হয়, তবে আমি এখনো খুব বেশি আগের বেডটাইম এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিই — কারণ এই বয়সে শিশুরা এখনো একটানা ১১-১২ ঘণ্টা ঘুমায় না। এই বয়স থেকে আমরা দেখতে পাই, শিশুরা ঘুমের সময় একটু বেশি প্রতিরোধ করতে শুরু করে এবং সামনে আরও কিছু সপ্তাহ এমনটাই চলতে পারে।

এখানে ৬ সপ্তাহ বয়সী শিশুর একটি সম্ভাব্য ঘুমের রুটিন দেওয়া হলো:

ঘুমের সময়সূচি:

সময়কার্যক্রম
সকাল ৭:০০জাগা, ডায়াপার পরিবর্তন, এবং দুধ খাওয়ানো
সকাল ৮:৩০ছোট ঘুম (Nap)
সকাল ১০:০০দুধ খাওয়ানো এবং ডায়াপার পরিবর্তন
সকাল ১১:৩০ছোট ঘুম (Nap)
দুপুর ১:০০দুধ খাওয়ানো এবং ডায়াপার পরিবর্তন
দুপুর ১:৩০/২:০০ছোট ঘুম (Nap)
বিকাল ৪:০০দুধ খাওয়ানো এবং ডায়াপার পরিবর্তন
বিকাল ৪:৩০ছোট ঘুম (Nap)
সন্ধ্যা ৬:৩০ছোট ঘুম (Nap)
সন্ধ্যা ৭:০০দুধ খাওয়ানো এবং ডায়াপার পরিবর্তন
রাত ৮:০০/৮:৩০দুধ খাওয়ানো (ক্লাস্টার ফিড)
রাত ৮:৩০ছোট ঘুম (Nap)
রাত ৯:৪৫দুধ খাওয়ানো এবং ডায়াপার পরিবর্তন
রাত ১০:০০রাতের ঘুম
রাত ২:০০দুধ খাওয়ানো এবং ডায়াপার পরিবর্তন
ভোর ৫:০০দুধ খাওয়ানো এবং ডায়াপার পরিবর্তন

৭-সপ্তাহ বয়সী নবজাতক শিশুর ঘুমের সময়সূচি এবং ঘুমের ধরণ

ঘুমের ধরণ:

আপনার নবজাতকের ঘুমের ধরণ এখন কিছুটা গড়ে উঠছে এবং ধীরে ধীরে হয়তো একটু বেশি নিয়মিত হয়ে উঠছে। ৭ সপ্তাহ বয়সী শিশুর এখনো প্রতিদিন প্রায় ১৪-১৬ ঘণ্টা ঘুমের প্রয়োজন হয় এবং তার রুটিনটি সাধারণত ৬ সপ্তাহ বয়সের রুটিনের মতোই দেখতে হতে পারে। এ বয়সে শিশুর রাতের ঘুম একটু আগেভাগে শুরু হতে পারে এবং সন্ধ্যার একটি ক্লাস্টার ফিড কমে যেতে পারে।

সন্ধ্যার দিকের বিরক্তিকর কান্নাকাটি বা অস্থিরতা সাধারণত এই বয়সে কমে আসে। তবে যদি আপনার শিশুর আর কয়েক সপ্তাহ লাগে, তাহলেও তা একদম স্বাভাবিক। চিন্তার কিছু নেই! আপনার শিশু দীর্ঘদিন এভাবে কান্নাকাটি করবে না — যদি সে প্রয়োজনীয় ঘুম পাচ্ছে। যদি কোনো উদ্বেগ থাকে, তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলুন এবং নিশ্চিত হোন শিশুর ওজন ঠিকভাবে বাড়ছে।

এখানে ৭ সপ্তাহ বয়সী শিশুর একটি সাধারণ দৈনিক রুটিন ও ঘুমের সময়সূচি দেওয়া হলো:

ঘুমের সময়সূচি:

সময়কার্যক্রম
সকাল ৭:০০জাগা, ডায়াপার পরিবর্তন, এবং দুধ খাওয়ানো
সকাল ৮:৩০ছোট ঘুম (Nap)
সকাল ১০:০০দুধ খাওয়ানো এবং ডায়াপার পরিবর্তন
সকাল ১১:৩০ছোট ঘুম (Nap)
দুপুর ১:০০দুধ খাওয়ানো এবং ডায়াপার পরিবর্তন
দুপুর ১:৩০/২:০০ছোট ঘুম (Nap)
বিকাল ৪:০০দুধ খাওয়ানো এবং ডায়াপার পরিবর্তন
বিকাল ৪:৩০ছোট ঘুম (Nap)
সন্ধ্যা ৬:৩০ছোট ঘুম (Nap)
সন্ধ্যা ৭:০০দুধ খাওয়ানো এবং ডায়াপার পরিবর্তন
রাত ৮:৩০দুধ খাওয়ানো
রাত ৯:০০রাতের ঘুম
রাত ২:০০দুধ খাওয়ানো এবং ডায়াপার পরিবর্তন
ভোর ৫:০০দুধ খাওয়ানো এবং ডায়াপার পরিবর্তন

একটা ঘুমের রুটিন ধীরে ধীরে গড়ে উঠছে! যদি আপনার শিশু একটানা ৫ ঘণ্টা ঘুমায়, তাহলে অভিনন্দন! এটাকেই সাধারণভাবে “রাতভর ঘুমানো” বলা হয়। অবশ্য, আপনার নিজের ঘুম এখনো পুরো রাত জুড়ে হচ্ছে নাও হতে পারে।

কিছু শিশু — বিশেষ করে যারা ফর্মুলা দুধ খায় — তারা রাতে আরও দীর্ঘ সময় ঘুমাতে শুরু করতে পারে। কেউ কেউ দিনে বোতলের পরিমাণ বাড়িয়েছে, আবার কেউ এখনো বাড়ায়নি। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তারা প্রয়োজনীয় খাবার পাচ্ছে কি না। বুকের দুধ খাওয়া শিশুরা এই বয়সেও রাতে তিনবার পর্যন্ত খেতে পারে।

৮-সপ্তাহ/২-মাস বয়সী নবজাতক শিশুর ঘুমের সময়সূচি এবং ঘুমের ধরণ

ঘুমের ধরণ:

৮ সপ্তাহ বা ২ মাস বয়সে অনেক শিশুই রাতে দীর্ঘ সময় ঘুমাতে শুরু করে এবং তাদের রাতের ঘুম ধীরে ধীরে ১১-১২ ঘণ্টায় পৌঁছায়। এই সময় বিছানায় যাওয়ার সময়টাও আগানো শুরু করে। গড় হিসেবে দিনে ৩-৪ ঘণ্টা ছোট ঘুম (Nap) হয়। তবুও, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এখনো শিশুর প্রায় ১৪-১৬ ঘণ্টা ঘুমের প্রয়োজন হয়। এই বয়সে শিশুরা এখনো অনেক ঘুমায়!

তবে, যদি আপনার শিশুর এখনো একটু দেরিতে ঘুমানোর অভ্যাস থাকে, সেটা খুব অস্বাভাবিক নয়। যতদিন না আপনার শিশু রাতে ১১-১২ ঘণ্টা একটানা ঘুমায়, ততদিন সন্ধ্যা ৮টার আগেই বিছানায় শুয়ে পড়া ঠিক হবে না — না হলে দিনটা অনেক আগে শুরু করতে হবে!

এছাড়াও, এই বয়সে যদি শিশুর রাতের খাওয়ার সংখ্যা ১-২ বারেই সীমিত থাকে, তবে যখন রাতের ঘুম আরও দীর্ঘ হয়, তখন মাঝে মাঝে আবার একবার খাওয়ার প্রয়োজন পড়ে যেতে পারে — তবে সেটা সাময়িক।

এই বয়সে অনেক বাবা-মা সুয়াডল বন্ধ করে দেন কারণ শিশু গড়াগড়ি শুরু করে, যা ঘুমের ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি করতে পারে। এর ফলে রাতে ঘন ঘন জাগা এবং ছোট ছোট ন্যাপ হতে পারে।
এছাড়াও, ৮ সপ্তাহে সাধারণত একটি গ্রোথ স্পার্ট হয় — সেটাও মনে রাখতে হবে।
এই বয়সেই অনেক বাবা-মা নবজাতকের ঘুম প্রশিক্ষণ (sleep training) নিয়ে ভাবতে শুরু করেন।

ঘুমের সময়সূচি:

সময়কার্যক্রম
সকাল ৭:০০জাগা, ডায়াপার পরিবর্তন, এবং দুধ খাওয়ানো
সকাল ৮:৩০ছোট ঘুম (Nap)
সকাল ১০:০০দুধ খাওয়ানো এবং ডায়াপার পরিবর্তন
সকাল ১১:০০/১১:৩০ছোট ঘুম (Nap)
দুপুর ১:০০দুধ খাওয়ানো এবং ডায়াপার পরিবর্তন
দুপুর ১:৩০/২:০০ছোট ঘুম (Nap)
বিকাল ৪:০০দুধ খাওয়ানো এবং ডায়াপার পরিবর্তন
বিকাল ৫:০০ছোট ঘুম (Nap)
সন্ধ্যা ৭:০০দুধ খাওয়ানো এবং ডায়াপার পরিবর্তন
সন্ধ্যা ৭:৩০রাতের ঘুম
রাত ১০:৩০ফিড-আপ/ড্রিম ফিড (ঘুমন্ত অবস্থায় দুধ খাওয়ানো)
ভোর ৩:৩০দুধ খাওয়ানো এবং ডায়াপার পরিবর্তন

Please Note: সব শিশু — বিশেষ করে যারা বুকের দুধ খায় — এই বয়সে রাতের খাওয়া শুধুমাত্র দুইবারে সীমিত রাখতে পারে না, বিশেষ করে যদি তারা রাতে ১২ ঘণ্টা বিছানায় থাকে। কিছু শিশু এখনো রাতে তিনবার খেতে পারে, এবং সেটাও গড়পড়তা পরিসরের মধ্যেই পড়ে।

৯-সপ্তাহ বয়সী নবজাতক শিশুর ঘুমের সময়সূচি এবং ঘুমের ধরণ

ঘুমের ধরণ:

৯ সপ্তাহ বয়সে, আপনার শিশুর রাতে ১১-১২ ঘণ্টা ঘুম এবং দিনে ৩-৪ ঘণ্টা ছোট ঘুম (Nap) প্রয়োজন হয় — যা সাধারণত ৩-৪টি ন্যাপে ভাগ হয়ে থাকে। মোট মিলে প্রতিদিন প্রায় ১৪-১৬ ঘণ্টা ঘুমের প্রয়োজন পড়ে। এই ঘুমের চাহিদা আরও কয়েক সপ্তাহ এভাবেই থাকবে।

৯ সপ্তাহ বয়সে আপনার শিশুর ঘুমের রুটিন সাধারণত ৮ সপ্তাহ বয়সের রুটিনের চেয়ে খুব বেশি ভিন্ন হবে না। ১৬ সপ্তাহের কাছাকাছি যেতেই রুটিনে পরিবর্তনের হার কিছুটা ধীর হতে শুরু করে।

নিচে ৯ সপ্তাহ বয়সী শিশুর একটি নমুনা ঘুমের রুটিন দেওয়া হলো — তবে মনে রাখবেন, সব শিশুই আলাদা।

ঘুমের সময়সূচি:

সময়কার্যক্রম
সকাল ৭:০০জাগা, ডায়াপার পরিবর্তন, এবং দুধ খাওয়ানো
সকাল ৮:৩০ছোট ঘুম (Nap)
সকাল ১০:০০দুধ খাওয়ানো এবং ডায়াপার পরিবর্তন
সকাল ১১:০০/১১:৩০ছোট ঘুম (Nap)
দুপুর ১:০০দুধ খাওয়ানো এবং ডায়াপার পরিবর্তন
দুপুর ১:৩০/২:০০ছোট ঘুম (Nap)
বিকাল ৪:০০দুধ খাওয়ানো এবং ডায়াপার পরিবর্তন
বিকাল ৫:০০ছোট ঘুম (Nap)
সন্ধ্যা ৭:০০দুধ খাওয়ানো এবং ডায়াপার পরিবর্তন
সন্ধ্যা ৭:৩০রাতের ঘুম
রাত ১০:৩০ফিড-আপ / ড্রিম ফিড (ঘুমন্ত অবস্থায় দুধ খাওয়ানো)
ভোর ৩:৩০দুধ খাওয়ানো এবং ডায়াপার পরিবর্তন

Please Note: সব শিশু — বিশেষ করে যারা বুকের দুধ খায় — এই বয়সে রাতের খাওয়া শুধু দুইবারে নামিয়ে আনতে পারে না, বিশেষ করে যদি তারা একটানা ১২ ঘণ্টা বিছানায় থাকে। কিছু শিশু এখনো রাতে তিনবার খেতে পারে, এবং এটিও একদম গড়পড়তা ধরা হয়।

১০-সপ্তাহ বয়সী নবজাতক শিশুর ঘুমের সময়সূচি এবং ঘুমের ধরণ

ঘুমের ধরণ:

আপনার ১০ সপ্তাহ বয়সী শিশু যদি এখনো না করে থাকে, তাহলে এখন থেকেই হয়তো একটু আগেভাগে ঘুমাতে যাওয়া শুরু করবে। এখন সে সম্ভবত রাতে ১১-১২ ঘণ্টা বিছানায় থাকে। ১০ সপ্তাহ বয়সী শিশুর গড় ঘুমের প্রয়োজন ২৪ ঘণ্টায় প্রায় ১৪-১৬ ঘণ্টা। এই বয়সে তারা সাধারণত দিনে ৩-৪টি ছোট ঘুম (Nap) নেয়।

নিচে একটি ১০ সপ্তাহ বয়সী শিশুর গড় ঘুমের রুটিনের একটি নমুনা দেওয়া হলো:

ঘুমের সময়সূচি:

সময়কার্যক্রম
সকাল ৭:০০জাগা, ডায়াপার পরিবর্তন, এবং দুধ খাওয়ানো
সকাল ৮:৩০ছোট ঘুম (Nap)
সকাল ১০:০০দুধ খাওয়ানো এবং ডায়াপার পরিবর্তন
সকাল ১১:৩০ছোট ঘুম (Nap)
দুপুর ১:০০দুধ খাওয়ানো এবং ডায়াপার পরিবর্তন
দুপুর ২:০০ছোট ঘুম (Nap)
বিকাল ৪:০০দুধ খাওয়ানো এবং ডায়াপার পরিবর্তন
বিকাল ৫:০০ছোট ঘুম (Nap)
সন্ধ্যা ৭:০০দুধ খাওয়ানো এবং ডায়াপার পরিবর্তন
সন্ধ্যা ৭:৩০রাতের ঘুম
রাত ১০:৩০ফিড-আপ / ড্রিম ফিড (ঘুমন্ত অবস্থায় দুধ খাওয়ানো)
ভোর ৩:৩০দুধ খাওয়ানো এবং ডায়াপার পরিবর্তন

Please Note: সব শিশু — বিশেষ করে যারা বুকের দুধ খায় — এই বয়সে রাতের খাবার মাত্র দুইবারে সীমাবদ্ধ করতে পারে না, বিশেষ করে যদি তারা একটানা ১২ ঘণ্টা বিছানায় থাকে। কিছু শিশু এখনো রাতে তিনবার খেতে পারে, এবং এটিও গড় হিসেবেই ধরা হয়।

-সপ্তাহ বয়সী নবজাতক শিশুর ঘুমের সময়সূচি এবং ঘুমের ধরণ

ঘুমের ধরণ:

১১ সপ্তাহ বয়সী শিশুর এখনো রাতে ১১-১২ ঘণ্টা ঘুম এবং দিনে ৩-৪টি ছোট ঘুম (Nap) প্রয়োজন হয়, তবে এই বয়সে মোট ঘুমের সময় সাধারণত কিছুটা কমে গিয়ে গড়পড়তা প্রায় ১৪-১৫ ঘণ্টা হয়।

যখন আপনার শিশু ৩ মাসের কাছাকাছি পৌঁছায়, তখন সে দিনে একটু বেশি সময় জেগে থাকতে পারে এবং কিছু ন্যাপ ছোট হতে শুরু করে। এই বয়সে অনেকেই শিশুকে দিনে ঘুমের জন্য ক্রিবে (crib) শোয়ানো শুরু করেন।

নিচে ১১ সপ্তাহ বয়সী শিশুর একটি দিনের সাধারণ রুটিন তুলে ধরা হলো:

ঘুমের সময়সূচি:

সময়কার্যক্রম
সকাল ৭:০০জাগা, ডায়াপার পরিবর্তন, এবং দুধ খাওয়ানো
সকাল ৮:৩০ছোট ঘুম (Nap)
সকাল ১০:০০দুধ খাওয়ানো এবং ডায়াপার পরিবর্তন
সকাল ১১:৩০ছোট ঘুম (Nap)
দুপুর ১:০০দুধ খাওয়ানো এবং ডায়াপার পরিবর্তন
দুপুর ২:০০ছোট ঘুম (Nap)
বিকাল ৪:০০দুধ খাওয়ানো এবং ডায়াপার পরিবর্তন
বিকাল ৪:৩০হালকা ঘুম (Catnap)
সন্ধ্যা ৬:৩০দুধ খাওয়ানো এবং ডায়াপার পরিবর্তন
সন্ধ্যা ৭:০০রাতের ঘুম
রাত ১০:৩০ফিড-আপ / ড্রিম ফিড (ঘুমন্ত অবস্থায় দুধ খাওয়ানো)
ভোর ৩:৩০দুধ খাওয়ানো এবং ডায়াপার পরিবর্তন

Please Note: সব শিশু — বিশেষ করে যারা বুকের দুধ খায় — এই বয়সে রাতের খাবার মাত্র দুইবারে সীমাবদ্ধ রাখতে পারে না, বিশেষ করে যদি তারা একটানা ১২ ঘণ্টা বিছানায় থাকে। কিছু শিশু এখনো রাতে তিনবার খেতে পারে, এবং এটিও গড়পড়তা হিসেবেই ধরা হয়।

১২-সপ্তাহ/৩-মাস বয়সী নবজাতক শিশুর ঘুমের সময়সূচি এবং ঘুমের ধরণ

ঘুমের ধরণ:

আপনার নবজাতকের ঘুমের ধরণ এখন আগের কয়েক সপ্তাহের তুলনায় অনেকটাই বদলে গেছে। ১২ সপ্তাহ বয়সী (অথবা ৩ মাস বয়সী) শিশুরা এখন এমন একটি ধাপে পৌঁছাতে শুরু করে, যেখানে নবজাতকের ঘুম নিয়ে সমস্যা দেখা দিতে পারে — যদি এখনো না দেখা দিয়ে থাকে। অনেক সময় ন্যাপগুলো ছোট হয়ে যেতে পারে এবং নির্দিষ্ট রুটিন বা “খাওয়া–খেলা–ঘুম” নিয়ম মেনে চলাও কঠিন হয়ে পড়ে।

আপনার শিশুর এখনো রাতে ১১-১২ ঘণ্টা এবং দিনে প্রায় ৩-৪ ঘণ্টা ঘুমের প্রয়োজন হয়। তবে মোট গড় ঘুমের সময় প্রায় ১৪ ঘণ্টার আশেপাশে থাকে। অবশ্যই, সব শিশুই একরকম নয় — কেউ একটু বেশি ঘুমায়, কেউ একটু কম। যদি আপনার শিশুর ঘুম একটু কম হয়, তাহলে ৩ মাস বয়সী শিশুর জন্য একটি নিয়মিত রুটিন গড়ে তোলা কিছুটা কঠিন হতে পারে।

আদর্শভাবে, আপনার শিশুকে একটানা দুই ঘণ্টার বেশি জাগিয়ে না রাখা ভালো। না হলে, ৩ মাস বয়সী শিশু খুব অস্থির বা কান্নাকাটি করতে পারে।

নিচে ১২ সপ্তাহ বয়সী শিশুর একটি সম্ভাব্য ঘুমের রুটিন দেওয়া হলো — যদিও এখনো এটি পুরোপুরি নিয়মিত নাও হতে পারে:

ঘুমের সময়সূচি:

সময়কার্যক্রম
সকাল ৭:০০জাগা, ডায়াপার পরিবর্তন, এবং দুধ খাওয়ানো
সকাল ৮:৪৫ছোট ঘুম (Nap)
সকাল ১০:০০দুধ খাওয়ানো
সকাল ১১:৪৫ছোট ঘুম (Nap)
দুপুর ১:০০দুধ খাওয়ানো
দুপুর ২:৩০ছোট ঘুম (Nap)
বিকাল ৪:০০দুধ খাওয়ানো
বিকাল ৫:০০ছোট ঘুম (Nap)
সন্ধ্যা ৭:০০দুধ খাওয়ানো
সন্ধ্যা ৭:৩০রাতের ঘুম
রাত ১০:৩০ফিড-আপ / ড্রিম ফিড (ঘুমন্ত অবস্থায় দুধ খাওয়ানো)
ভোর ৩:৩০দুধ খাওয়ানো (এই বয়সে ফর্মুলা খাওয়া শিশুরা সাধারণত এই ফিড বাদ দিতে শুরু করে)

১৩-সপ্তাহ বয়সী নবজাতক শিশুর ঘুমের সময়সূচি এবং ঘুমের ধরণ

ঘুমের ধরণ:

আপনার ১৩ সপ্তাহ বয়সী শিশুর ঘুমের রুটিন ১২ সপ্তাহ বয়সের তুলনায় খুব একটা ভিন্ন হবে না — কারণ এই সময়ে বড় কোনো পরিবর্তন সাধারণত দেখা যায় না।

বয়স বাড়ার সাথে সাথে, আপনার শিশু ধীরে ধীরে আরও দীর্ঘ সময় জেগে থাকতে শিখবে। এই বয়সে বেশিরভাগ শিশু একটানা ১-২ ঘণ্টা জেগে থাকতে পারে। দিনের শুরুতে জেগে থাকার প্রথম সময়টাই সাধারণত সবচেয়ে ছোট হয়।

তবে, এই বয়সে সব শিশুর ৪টি ছোট ঘুম (Nap) নাও হতে পারে। সাধারণত যারা একটু দীর্ঘ ঘুম নেয়, তাদের ন্যাপ সংখ্যা কমে যায়। তাই এটি নির্ভর করে আপনার শিশুর সকালের ন্যাপ কতটা নিয়মিত হয়েছে তার উপর।

এই সময় শিশুর স্নায়ুতন্ত্র পরিপক্ক হচ্ছে এবং নবজাতকের ঘুম ধীরে ধীরে একটি নিয়মে গঠিত হচ্ছে।

নিচে ১৩ সপ্তাহ বয়সী শিশুর একটি ঘুমের রুটিনের নমুনা দেওয়া হলো:

ঘুমের সময়সূচি:

সময়কার্যক্রম
সকাল ৭:০০জাগা, ডায়াপার পরিবর্তন, এবং দুধ খাওয়ানো
সকাল ৮:৪৫ছোট ঘুম (Nap)
সকাল ১০:০০দুধ খাওয়ানো
সকাল ১১:৪৫ছোট ঘুম (Nap)
দুপুর ১:০০দুধ খাওয়ানো
দুপুর ২:৩০ছোট ঘুম (Nap)
বিকাল ৪:০০দুধ খাওয়ানো
বিকাল ৫:০০ছোট ঘুম (Nap)
সন্ধ্যা ৭:০০দুধ খাওয়ানো
সন্ধ্যা ৭:৩০রাতের ঘুম
রাত ১০:৩০ফিড-আপ / ড্রিম ফিড (ঘুমন্ত অবস্থায় দুধ খাওয়ানো)
ভোর ৩:৩০দুধ খাওয়ানো (ফর্মুলা খাওয়া শিশুদের এই ফিড সবসময় প্রয়োজন হয় না)

১৪-সপ্তাহ বয়সী নবজাতক শিশুর ঘুমের সময়সূচি এবং ঘুমের ধরণ

ঘুমের ধরণ:

১৪ সপ্তাহ বয়সে, আপনার শিশুর এখনো রাতে ১১-১২ ঘণ্টা এবং দিনে প্রায় ৩-৪ ঘণ্টা ঘুমের প্রয়োজন হয়। এই বয়সে কিছু শিশু দিনে ৩টি ছোট ঘুম (Nap)-এর দিকে রূপান্তরিত হতে শুরু করে — যদিও সব শিশুর ক্ষেত্রে এমনটা নাও হতে পারে। এটি নির্ভর করে তারা এক ঘুম থেকে আরেক ঘুম পর্যন্ত কতক্ষণ জেগে থাকতে পারে তার উপর।

বেশিরভাগ শিশুরই এখনো জাগার ১-২ ঘণ্টার মধ্যেই আবার ঘুমের প্রয়োজন হয়। আবার যদি শিশু রাতে ১২ ঘণ্টা ঘুমায়, তাহলে দিনে ঘুমের চাহিদা একটু কমে আসতে পারে।

এই সময় রুটিন ধীরে ধীরে গড়ে উঠতে থাকে — যদিও কিছু শিশু স্বাভাবিকভাবেই একটু নিয়মিত হয়ে ওঠে এবং একটি পূর্বানুমেয় রুটিনের দিকে এগোয়।

যদি আপনার শিশুর মধ্যাহ্নে একটি দীর্ঘ ন্যাপ হয়ে থাকে, তাহলে রুটিনটা নিচের মতো দেখতে হতে পারে:

ঘুমের সময়সূচি:

সময়কার্যক্রম
সকাল ৭:০০জাগা, ডায়াপার পরিবর্তন, এবং দুধ খাওয়ানো
সকাল ৯:০০ছোট ঘুম (Nap)
সকাল ১০:০০দুধ খাওয়ানো
দুপুর ১২:০০ছোট ঘুম (Nap)
দুপুর ১:০০দুধ খাওয়ানো
বিকাল ৪:০০দুধ খাওয়ানো
বিকাল ৪:৩০হালকা ঘুম (Catnap)
সন্ধ্যা ৬:৪৫দুধ খাওয়ানো
সন্ধ্যা ৭:০০রাতের ঘুম
রাত ১০:৩০ফিড-আপ / ড্রিম ফিড (ঘুমন্ত অবস্থায় দুধ খাওয়ানো)
ভোর ৩:৩০দুধ খাওয়ানো (ফর্মুলা খাওয়া শিশুদের এই ফিড সবসময় প্রয়োজন হয় না)

১৫-সপ্তাহ বয়সী নবজাতক শিশুর ঘুমের সময়সূচি এবং ঘুমের ধরণ

ঘুমের ধরণ:

১৫ সপ্তাহ বয়সী শিশুর ঘুম ১৪ সপ্তাহের তুলনায় খুব বেশি ভিন্ন হবে না। যদিও সপ্তাহে সপ্তাহে বড় পরিবর্তন দেখা যায় না, কিন্তু ১ থেকে ১৬ সপ্তাহ পর্যন্ত শিশুর মধ্যে অনেক পরিবর্তন ঘটে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো — মনে রাখা, প্রতিটি শিশু নিজের গতিতে বেড়ে ওঠে। উদাহরণস্বরূপ, ১৫ সপ্তাহ বয়সী একটি শিশু কারো কাছে ১২ সপ্তাহের মতো লাগতে পারে, আবার কারো কাছে ১৬ সপ্তাহের মতো — এবং দুটোই একদম স্বাভাবিক। সব শিশুর ঘুম একসাথে গুছিয়ে ওঠে না।

শিশুরা সাধারণত তখনই একটু বেশি নিয়মিত হয়ে ওঠে যখন তারা দিনে ৩টি থেকে ২টি ন্যাপে চলে আসে। তবে অন্যান্য ন্যাপ ট্রানজিশন এবং রুটিন পরিবর্তনগুলো সব সময় খুব পূর্বানুমেয় হয় না।

যদি আপনার শিশু ঘুমের মধ্যবর্তী সময়গুলোতে বেশি সময় জেগে থাকতে না পারে এবং দীর্ঘ ন্যাপ না নেয়, তাহলে তার রুটিনটা নিচের মতো হতে পারে:

ঘুমের সময়সূচি:

সময়কার্যক্রম
সকাল ৭:০০জাগা, ডায়াপার পরিবর্তন, এবং দুধ খাওয়ানো
সকাল ৯:০০ছোট ঘুম (Nap)
সকাল ১০:০০দুধ খাওয়ানো
দুপুর ১২:০০ছোট ঘুম (Nap)
দুপুর ১:০০দুধ খাওয়ানো
বিকাল ৩:০০হালকা ঘুম (Catnap)
বিকাল ৪:০০দুধ খাওয়ানো
বিকাল ৫:০০হালকা ঘুম (Catnap)
সন্ধ্যা ৭:১৫দুধ খাওয়ানো
সন্ধ্যা ৭:৩০রাতের ঘুম
রাত ১০:৩০ফিড-আপ / ড্রিম ফিড (ঘুমন্ত অবস্থায় দুধ খাওয়ানো)
ভোর ৩:৩০দুধ খাওয়ানো (ফর্মুলা খাওয়া শিশুদের এই ফিড সবসময় প্রয়োজন হয় না)

১৬-সপ্তাহ/৪-মাস বয়সী নবজাতক শিশুর ঘুমের সময়সূচি এবং ঘুমের ধরণ

ঘুমের ধরণ:

১৬ সপ্তাহ বয়স হলো সেই সময়, যেটাকে আমরা নবজাতক থাকার শেষ ধাপ হিসেবে ধরি। এই বয়সে আপনার শিশু দিনে অনেক বেশি সময় জেগে থাকবে এবং তার ব্যক্তিত্ব ফুটে উঠতে শুরু করবে! এই বয়সেই আমি বুঝেছিলাম আমার ছেলে খুব উদ্যমী আর জেদি — তখনই বুঝে গিয়েছিলাম, সামনে অনেক চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে! (শেষ পর্যন্ত ও আমাকে একটা সম্পূর্ণ ওয়েবসাইট তৈরি করতে অনুপ্রাণিত করেছে 😉)

১৬ সপ্তাহ বা ৪ মাস বয়সে সবচেয়ে সাধারণ ঘুমসংক্রান্ত সমস্যা হলো — পরিচিত “৪ মাস বয়সী ঘুমের বিপর্যয়” (4 Month Sleep Regression)। এই সময় অনেক শিশু রাতে বারবার জেগে ওঠে এবং দিনে ছোট ছোট ঘুম (Nap) নেয়। এই রিগ্রেশন ১২ সপ্তাহের আগেও শুরু হতে পারে, আবার কারো ক্ষেত্রে ৫ মাস পর্যন্তও বিলম্বিত হতে পারে — যখন শিশুর ঘুমের চক্র পরিবর্তিত হয়। কিছু শিশু ধীরে ধীরে স্বাভাবিক ঘুমে ফিরে আসে, আবার কিছু শিশুকে ভালো ঘুম শেখাতে অতিরিক্ত সহায়তার প্রয়োজন হয়।

এই সময় অনেক প্যারেন্ট আমাদের ফ্রি ই-বুক “৫টি উপায়: কীভাবে আপনার শিশুকে রাতভর ঘুমাতে সাহায্য করবেন” ডাউনলোড করে থাকেন। আপনি চাইলে ঘুম প্রশিক্ষণ (sleep training) নিয়েও ভাবতে পারেন।

নিচে ১৬ সপ্তাহ বয়সী শিশুর একটি ঘুমের রুটিনের নমুনা দেওয়া হলো:

ঘুমের সময়সূচি:

সময়কার্যক্রম
সকাল ৭:০০জাগা, ডায়াপার পরিবর্তন, এবং দুধ খাওয়ানো
সকাল ৯:০০ছোট ঘুম (Nap)
সকাল ১০:০০দুধ খাওয়ানো
দুপুর ১২:০০ছোট ঘুম (Nap)
দুপুর ১:০০দুধ খাওয়ানো
বিকাল ৪:০০দুধ খাওয়ানো
বিকাল ৪:৩০হালকা ঘুম (Catnap)
সন্ধ্যা ৬:৪৫দুধ খাওয়ানো
সন্ধ্যা ৭:০০রাতের ঘুম
রাত ১০:৩০ফিড-আপ / ড্রিম ফিড (ঘুমন্ত অবস্থায় দুধ খাওয়ানো)
ভোর ৩:৩০দুধ খাওয়ানো (ফর্মুলা খাওয়া শিশুদের এই ফিড সবসময় প্রয়োজন হয় না)

আশা করি এই লেখাটি আপনাকে আপনার শিশুর উপযোগী নবজাতকের ঘুমের রুটিন ও ঘুমের ধরণ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা দিতে পেরেছে। তবে মনে রাখবেন, প্রতিটি শিশু আলাদা — কেউ একটু সহজ-সরল, আবার কেউ একটু বেশি চঞ্চল বা জেদি।

যেসব শিশু একটু বেশি উদ্যমী বা সংবেদনশীল, তাদের ঘুমের রুটিন গুছিয়ে তুলতে সময় ও ধৈর্য লাগতে পারে।

তবুও, আশার কথা হলো — একসময় সব শিশুই ধীরে ধীরে একটা ছন্দে চলে আসে, যদিও সব শিশুর রুটিন ঘড়ির মতো নিখুঁত হয় না। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আপনি আপনার শিশুকে আরও ভালোভাবে চিনতে শিখবেন — আর বুঝে যাবেন তার নিজস্ব চাহিদা ও রুটিন ঠিক কেমন। ❤️

Disclaimer:
TwinkleNap.com-এ আমরা যেসব কনটেন্ট শেয়ার করি — যেমন আর্টিকেল, গাইড, ই-বুক, পরামর্শ, ছবি, লেখা বা অন্যান্য তথ্য — সবকিছুই শুধুমাত্র আপনাকে সাহায্য করার উদ্দেশ্যে দেওয়া হয়।
এগুলো কোনোভাবেই চিকিৎসকের পরামর্শ, রোগ নির্ণয় বা চিকিৎসার বিকল্প নয়।
আপনার বা আপনার ছোট্ট বাচ্চার স্বাস্থ্য, ঘুম, খাওয়ার অভ্যাস বা আচরণ নিয়ে যদি কোনো প্রশ্ন বা চিন্তা থাকে — তাহলে দয়া করে একজন চিকিৎসক বা যোগ্য স্বাস্থ্যসেবা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
TwinkleNap.com-এ কিছু পড়েই কখনো পেশাদার চিকিৎসকের পরামর্শ এড়িয়ে যাবেন না বা দেরি করবেন না। আমরা পাশে আছি সহায়তায়, কিন্তু চিকিৎসকের জায়গায় নই। ❤️